📌 চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের কিশোর-কিশোরীরা মানসিক চাপ থেকে মুক্তির নামে ঘুমের ওষুধ ও কাশির সিরাপের মতো সাধারণ ওষুধের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনলাইন থেকে সহজলভ্য এসব ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে তারা।
চীনের উপকূলীয় প্রদেশের এক কিশোরী তার মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য শুরু করেছিল ঘুমের ওষুধ ও কাশির সিরাপ সেবন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে প্রথম ওষুধের নেশায় জড়িয়ে পড়ে। তার ভাষ্যমতে, ‘পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল কিংবা পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া—সবকিছুর থেকে পালাতে আমি এসব ওষুধ খেতাম।’ অনলাইন চ্যাট গ্রুপে অন্যদের পরামর্শে সে ব্যথানাশক ও মৃগীরোগের ওষুধসহ বিভিন্ন প্রেসক্রিপশনবিহীন ওষুধ খাওয়া শুরু করে। কখনো একসঙ্গে ৫টি, আবার কখনো ১০টিরও বেশি ট্যাবলেট গিলে ফেলত সে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের কিশোর-কিশোরীরা মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য ঘুমের ওষুধ ও কাশির সিরাপের মতো সাধারণ ওষুধের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে
- 📌 এক কিশোরী জানায়, ‘শরীরটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, মাথা চরমভাবে ঘুরছে’ — অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের ফলে তার এমন অবস্থা হয়েছিল
- 📌 অনলাইন চ্যাট গ্রুপে ওষুধ কেনার কৌশল ও বিকল্প ওষুধের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে
- 📌 চীনের সরকার দুই বছর আগে কাশির ওষুধকে মনঃপ্রভাবক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ করলেও তরুণেরা অন্য ওষুধের দিকে ঝুঁকছে
- 📌 অনলাইনে প্রতি গ্রাম ওষুধ মাত্র ১০ চীনা ইউয়ান বা প্রায় ১.৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে
📰 বিস্তারিত
চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের এক কিশোরী তার মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য শুরু করেছিল ঘুমের ওষুধ ও কাশির সিরাপ সেবন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে প্রথম ওষুধের নেশায় জড়িয়ে পড়ে। তার ভাষ্যমতে, ‘পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল কিংবা পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া—সবকিছুর থেকে পালাতে আমি এসব ওষুধ খেতাম।’ অনলাইন চ্যাট গ্রুপে অন্যদের পরামর্শে সে ব্যথানাশক ও মৃগীরোগের ওষুধসহ বিভিন্ন প্রেসক্রিপশনবিহীন ওষুধ খাওয়া শুরু করে। কখনো একসঙ্গে ৫টি, আবার কখনো ১০টিরও বেশি ট্যাবলেট গিলে ফেলত সে।
এক কিশোরী অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনের ফলে তার শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে একটি ভয়েস বার্তায় জানায়, ‘আমার মনে হচ্ছে শরীরটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। মাথা চরমভাবে ঘুরছে।’ অন্য একজন তাকে পরামর্শ দেয়, ‘চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো, কাল ঠিক হয়ে যাবে।’ অনলাইন চ্যাট গ্রুপে ওষুধ কেনার কৌশল ও বিকল্প ওষুধের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি চ্যাট রুমে ওষুধের দাম নিয়ে দর কষাকষিও হচ্ছে।
চীনের সরকার দুই বছর আগে কাশির ওষুধকে মনঃপ্রভাবক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ করে। তা সত্ত্বেও তরুণেরা অন্য ওষুধের দিকে ঝুঁকছে। অনলাইনে প্রতি গ্রাম ওষুধ মাত্র ১০ চীনা ইউয়ান বা প্রায় ১.৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনের বিচার মন্ত্রণালয়ের অপরাধ প্রতিরোধ ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পদার্থ সহজেই পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ একটি ওষুধ নিয়ন্ত্রণে আনলেও তরুণেরা দ্রুত এর বিকল্প খুঁজে নেয়।’
‘পড়াশোনা নিয়ে যখন খুব বেশি চাপ অনুভব করতাম, পরীক্ষায় ভালো করতে না পারতাম কিংবা মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া হলেও এসব ওষুধ খেতাম। আমি বাস্তবতা থেকে পালাচ্ছিলাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিয়াওমেই (১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর, ৫টি ট্যাবলেট, ১০টিরও বেশি ট্যাবলেট, ১০ চীনা ইউয়ান, ১.৪ ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!