📌 যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) প্রকাশ করেছে চীনের গোপন মহাকাশযান ‘শেনলোং’-এর সর্বোত্তম ছবি। ২০ বছর ধরে অস্তিত্ব থাকলেও এর কাজ ও ক্ষমতা সম্পর্কে খুব কম তথ্য ছিল। ডিআইএ-এর ১৩০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে মহাকাশ বর্জ্য ও চীন-রাশিয়া-ইরান-উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ হুমকি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) প্রকাশ করেছে চীনের অতি গোপন মহাকাশযান ‘শেনলোং’-এর সর্বোত্তম ছবি। এই ছবি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত যানটির ইতিহাসে সবচেয়ে স্পষ্ট এবং সেরা। ছবিতে দেখা যায়, মহাকাশযানটির নিচের অংশে সোলার প্যানেলের উপস্থিতি। এই ছবি ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ম্যাক্সার টেকনোলজিস’ ২০২৪ সালে, যা পরবর্তীতে ডিআইএ-এর ‘চ্যালেঞ্জেস টু সিকিউরিটি ইন স্পেস’ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ডিআইএ প্রকাশ করেছে ‘শেনলোং’-এর সর্বোত্তম ছবি, যা ২০২৩ সালের অভিযানের সময় তোলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে
- 📌 ডিআইএ-এর ১৩০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে মহাকাশ বর্জ্য বা ‘কেসলার সিনড্রোম’-এর হুমকি তুলে ধরা হয়েছে, যা স্যাটেলাইট ধ্বংসের শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে
- 📌 চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ভবিষ্যতের বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 ‘শেনলোং’ প্রায় ২০ বছর ধরে অস্তিত্ব থাকলেও এর কাজ ও ক্ষমতা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে
- 📌 ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যথাক্রমে ২, ২৭৬ ও ২৬৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করে ‘শেনলোং’। ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ অভিযানের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ‘এক্স-৩৭বি’ মহাকাশযান ৪৩১ দিন কক্ষপথে অবস্থান করে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যালিয়াম আর্সেনাইড সোলার সেল ব্যবহার করে
- 📌 ‘এক্স-৩৭বি’ ২৯ ফুটেরও বেশি লম্বা, ডানার বিস্তার ১৫ ফুট এবং ঘণ্টায় ২৮,০৪৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে
📰 বিস্তারিত
ডিআইএ-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে মহাকাশ বর্জ্য বা স্পেস ডেব্রির সমস্যা বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। অকেজো স্যাটেলাইট এবং মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত একটি শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘটনায় উচ্চগতির সংঘর্ষে একের পর এক স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে আরও বর্জ্য তৈরি হতে থাকে, যা মহাকাশে চলাচলের জন্য বিপদ সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ভবিষ্যতের বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘শেনলোং’ নামবিহীন চীনা মহাকাশযান হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২০ বছর ধরে এই যানটির অস্তিত্ব থাকলেও এর কাজ ও ক্ষমতা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২০ সালে এই যানটির একটি প্রোটোটাইপ দুই দিনের কক্ষপথ অভিযানে পাঠানো হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে এটি ২৭৬ দিন এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় অভিযানে ২৬৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করে। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের নেওয়া ছবিটি মূলত ২০২৩ সালের এই অভিযানের সময় তোলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিআইএ আরও জানিয়েছে, মহাকাশযানটি সে সময় কক্ষপথে একটি অজ্ঞাত বস্তু ছেড়েছিল। তবে এটি ছাড়া যানটির অন্য সব বিষয়ই এখনও রহস্যঘেরা।
চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লাঞ্চ সেন্টার থেকে গত ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘শেনলোং’ তার চতুর্থ অভিযানের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও নিজস্ব মহাকাশযান রয়েছে, যার নাম ‘এক্স-৩৭বি’। এই যানটি তৈরি করেছে প্লেন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িং। ‘এক্স-৩৭বি’ তার অষ্টম অভিযানে পৃথিবীর কক্ষপথে ৪৩১ দিন সময় কাটিয়েছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যানটির সাথে থাকা গ্যালিয়াম আর্সেনাইড সোলার সেল ব্যবহার করে। খাড়াভাবে উড্ডয়ন এবং আনুভূমিকভাবে অবতরণে সক্ষম এই যানটির দৈর্ঘ্য ২৯ ফুটেরও বেশি এবং ডানার বিস্তার প্রায় ১৫ ফুট। এটি ঘণ্টায় ২৮,০৪৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে।
"মহাকাশ বর্জ্য বা স্পেস ডেব্রি বর্তমানে মহাকাশে চলাচলের জন্য একটি বিশাল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বর্জ্য ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা স্যাটেলাইট ধ্বংসের শৃঙ্খল শুরু করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ), চীন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডিআইএ, ম্যাক্সার টেকনোলজিস, চীনের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩০ পৃষ্ঠা (প্রতিবেদন), ২০ বছর (শেনলোং-এর অস্তিত্ব), ২৭৬ দিন (২০২২ সালের অভিযান), ২৬৮ দিন (২০২৩ সালের অভিযান), ৭ ফেব্রুয়ারি (২০২৬), ৪৩১ দিন (এক্স-৩৭বি-এর অভিযান), ২৯ ফুট (এক্স-৩৭বি-এর দৈর্ঘ্য), ১৫ ফুট (ডানার বিস্তার), ২৮,০৪৪ কিলোমিটার (গতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!