📌 ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সি চিন পিংয়ের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ছিল মূল আকর্ষণ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠক ছিল অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেওয়ার সুযোগ। চীন ও ভারতের আলাদা বিবৃতিতে দেখা যায়, দু’দেশের কৌশলগত উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীন ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে, আর ভারত সীমান্ত শান্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে
১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপতি সি চিন পিংয়ের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ছিল মূল আকর্ষণ। এই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ভারতের জন্য এই বৈঠকের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখা এবং দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো যে ভারত বিশ্বে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখে এবং প্রয়োজনে তাদের ওপর প্রভাব রাখতে পারে। তবে চীনের দৃষ্টিতে সি চিন পিংয়ের নয়াদিল্লি সফর মূলত ভারতকেন্দ্রিক ছিল না। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার সুযোগ, বিশেষ করে তাঁর ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সি চিন পিংয়ের উপস্থিতি ছিল মূল আকর্ষণ, কারণ তার অনুপস্থিতি বা উপস্থিতি উভয়ই ছিল কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ।
- 📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সি চিন পিংয়ের বৈঠক ছিল দুইটি মূল উদ্দেশ্যে: চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো যে ভারত অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখে।
- 📌 চীনের বিবৃতিতে ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও জি-২০-এর উল্লেখ ছিল, যেখানে ভারতের বিবৃতিতে ব্রিকসের উল্লেখ ছিল না। চীন ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
- 📌 ভারতের বিবৃতিতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জোর ছিল, যেখানে চীন মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
- 📌 চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং ২১তম জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তুতি চলছে, তাই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
- 📌 যৌথ ঘোষণায় সীমান্ত নির্ধারণ ও নদীর পানির প্রবাহ নিয়ে আলোচনার কথা বলা হলেও, এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়নি।
- 📌 সি চিন পিং বলেছেন, ভারত ও চীন পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত। তিনি ‘হস্তক্ষেপ’ দূর করার ও উন্মুক্ত বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
বৈঠকের পর ভারত ও চীন আলাদা বিবৃতি প্রকাশ করে। এই বিবৃতিগুলো তুলনা করলে দেখা যায়, দু’দেশের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীনের বিবৃতি ভারতের তুলনায় অনেক দীর্ঘ—ইংরেজি সংস্করণে প্রায় তিন গুণ। তবে এর অর্থ এই নয় যে চীনের মূল মনোযোগ ছিল ভারত। বরং চীনের বক্তব্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষের প্রতিই বার্তা ছিল। ভারতের বিবৃতিতে ব্রিকসের উল্লেখ ছিল না, যেখানে চীনের বিবৃতিতে ব্রিকস সহযোগিতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চীন ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে ভারত ব্রিকসের মাধ্যমে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ও চীন ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের বিবৃতিতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছিল মূল বিষয়, যেখানে চীনের বিবৃতিতে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত মাসে দুই দেশের সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠকে প্রকাশিত ‘আট দফা ফলাফল ও ঐকমত্য’-এ সীমান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
চীনের বিবৃতিতে ভারতকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সি চিন পিং বলেছেন, ভারত ও চীন পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত। তিনি ‘হস্তক্ষেপ’ দূর করার ও উন্মুক্ত বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে ‘হস্তক্ষেপ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে নানা বিষয়কে এর আওতায় এনে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ চীনের হাতে রয়েছে।
"ভারত ও চীন পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত। উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে একে অপরকে দেখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়াদিল্লি (ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন), ওয়াশিংটন (সি চিন পিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সি চিন পিং (চীনের রাষ্ট্রপতি), নরেন্দ্র মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, ২৫তম সীমান্তবিষয়ক বৈঠক, ২১তম জাতীয় কংগ্রেস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!