📌 আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর জনমতের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে তাদের দুটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সরকারের বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা নিয়ে বিতর্কের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) তাদের লবিং কার্যক্রমের একটি নতুন পথে অগ্রসর হওয়ার পর জনমতের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ, তারা তাদের দুটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (প্যাক) বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন নিয়ে বর্তমান পরিবর্তিত জনমত এবং আইপ্যাকের নিজস্ব প্রভাবের সীমাবদ্ধতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইপ্যাকের সাবেক পরিচালক স্টিভ রোজেন লবিং সংস্থার জন্য প্রকাশ্য আলোচনার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে তাদের নিজস্ব গুপ্তচরবৃত্তি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় চাকরি হারান।
- 📌 ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে আইপ্যাক প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, দুটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (প্যাক) গঠন করে — একটি সরাসরি অর্থায়নকারী এবং অন্যটি বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য।
- 📌 ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে বিতর্কের কারণে ইসরায়েলপন্থী মার্কিনদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন শুরু হয়, বিশেষ করে ডেমোক্রেটদের মধ্যে।
- 📌 ইসরায়েলের পক্ষে কংগ্রেসে সমর্থন দিতে আইপ্যাকের দীর্ঘদিনের কৌশল ছিল অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত থাকা, যা তাদেরকে বিদেশি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নিবন্ধিত হতে বাধ্য না করে রাখত।
- 📌 ওয়াশিংটনে প্রভাব খাটানোর জন্য আইপ্যাকের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, কারণ তারা ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন রাজনীতিতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব ফেলছিল।
📰 বিস্তারিত
স্টিভ রোজেনের সতর্কবার্তা ছিল যে লবিং সংস্থাগুলো প্রকাশ্য আলোচনার মুখে ম্লান হয়ে যায়। এই সতর্কবার্তা পরবর্তীকালে আইপ্যাকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আইপ্যাক নিজেই দুটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (প্যাক) গঠন করে, যা সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার উদ্যোগ ছিল। এই পদক্ষেপের ফলে তারা প্রথমবারের মতো তাদের প্রভাবের সীমাবদ্ধতা অনুভব করতে শুরু করে।
আইপ্যাকের এই নতুন কৌশল ছিল ইসরায়েলের পক্ষে কংগ্রেসে সমর্থন জোগাড় করার জন্য সরাসরি অর্থায়ন করা। তারা দুটি প্যাক গঠন করে — একটি ছিল সরাসরি প্রার্থীদের তহবিলে অর্থ প্রদানের জন্য এবং অন্যটি ছিল বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য। এই পদক্ষেপের ফলে আইপ্যাকের প্রভাবের পরিমাপ সহজ হয়ে যায়, কিন্তু এর সাথে সাথে তাদের রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন নিয়ে বিতর্কের কারণ হলো ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা। এই সহায়তা নিয়ে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন শুরু হয়। বিশেষ করে ডেমোক্রেটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন নিয়ে শর্তসাপেক্ষ প্রশ্ন উঠতে থাকে। ফিলিস্তিনিদের মানবেতর জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলের উদারপন্থী সমর্থকদের একটি বড় অংশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে শুরু করে।
আইপ্যাকের দীর্ঘদিনের কৌশল ছিল অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত থাকা, যা তাদেরকে বিদেশি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নিবন্ধিত হতে বাধ্য না করে রাখত। এই কৌশল দীর্ঘদিন কার্যকর ছিল, কিন্তু জনগণের আদালতে এই কারিগরি যুক্তির কোনো মূল্য ছিল না। জনগণ স্পষ্ট বুঝতে পারছিল যে আইপ্যাক মূলত একটি বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে।
"যেকোনো লবি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী হলো রাতের ফোটা ফুলের মতো, অন্ধকারে বেড়ে ওঠে আর আলোর মুখ দেখলে ম্লান হয়ে যায়।"
স্টিভ রোজেন তার সহকর্মীকে লেখা এক মেমোতে এই মন্তব্য করেছিলেন। এই মন্তব্য পরবর্তীকালে আইপ্যাকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রমাণিত হয়। তারা প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর জনমতের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে তাদের দুটি প্যাক বন্ধ করে দিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্টিভ রোজেন (আইপ্যাকের সাবেক পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৮ বিলিয়ন ডলার (ইসরায়েলের বার্ষিক সামরিক সহায়তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!