📌 ১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ভারতীয় রেস্তোরাঁ 'ওমর খৈয়াম' খোলেন রহস্যময় শেফ জো রঞ্জি স্মাইল। ব্রিটিশ ক্রিকেটার কে এস রঞ্জিত সিং জির নাম থেকে 'রঞ্জি' নাম নিয়ে তিনি নিউইয়র্কের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলিতে কাজ শুরু করেন। স্বামী বিবেকানন্দের প্রভাবে ভারতীয় খাবারের প্রতি মার্কিনদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে তিনি নিজস্ব রেস্তোরাঁ খোলেন, কিন্তু ব্যবসা টিকে না পেরে জীবনের শেষদিকে মানবপাচার অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন
১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথম ভারতীয় রেস্তোরাঁর গল্প শুরু হয় এক রহস্যময় শেফ জো রঞ্জি স্মাইলের জীবন থেকে। ব্রিটিশ টেস্ট ক্রিকেটার কে এস রঞ্জিত সিং জির নাম থেকে 'রঞ্জি' নাম নিয়ে তিনি নিজেকে 'স্মাইল' উপাধি দিয়ে পরিচিতি লাভ করেন। লন্ডনের বিখ্যাত হোটেল থেকে নিউইয়র্কের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলিতে কাজ করার পর তিনি নিজস্ব রেস্তোরাঁ 'ওমর খৈয়াম' খোলেন, যা শুধু ভারতীয় খাবারের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দেননি, বরং মার্কিন রন্ধনশৈলীতে ভারতীয় প্রভাবের সূচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২৫ বছর আগে (১৯০১) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথম ভারতীয় রেস্তোরাঁ 'ওমর খৈয়াম' খোলেন রহস্যময় শেফ জো রঞ্জি স্মাইল।
- 📌 ব্রিটিশ ক্রিকেটার কে এস রঞ্জিত সিং জির নাম থেকে 'রঞ্জি' নাম নিয়ে তিনি 'স্মাইল' উপাধি নিয়ে নিউইয়র্কে আসেন।
- 📌 লন্ডনের বিখ্যাত সেসিল হোটেল থেকে নিউইয়র্কের 'শেরি’স রেস্তোরাঁ’র মালিক লুইস শেরি তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।
- 📌 স্বামী বিবেকানন্দের প্রভাবে নিউইয়র্কে ভারতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে তিনি নিজস্ব রেস্তোরাঁ খোলেন।
- 📌 'ওমর খৈয়াম' রেস্তোরাঁতে ভারতীয় পর্দা, ঝুলন্ত লণ্ঠন ও রাজস্থানি বাদ্যযন্ত্রের সুরে পরিবেশন করা হত।
- 📌 এক বছরের মধ্যে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে 'বেলুচিস্তানের আমিরের কাল্পনিক পুত্র' হিসেবে পরিচয় দেন।
- 📌 ১৯৩৭ সালে শেষ স্ত্রী আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করলে তিনি ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যান।
📰 বিস্তারিত
১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথম ভারতীয় রেস্তোরাঁর গল্প শুরু হয় এক রহস্যময় শেফ জো রঞ্জি স্মাইলের জীবন থেকে। ব্রিটিশ টেস্ট ক্রিকেটার কে এস রঞ্জিত সিং জির নাম থেকে 'রঞ্জি' নাম নিয়ে তিনি নিজেকে 'স্মাইল' উপাধি দিয়ে পরিচিতি লাভ করেন। লন্ডনের বিখ্যাত সেসিল হোটেল থেকে নিউইয়র্কের অভিজাত রেস্তোরাঁগুলিতে কাজ করার পর তিনি নিজস্ব রেস্তোরাঁ 'ওমর খৈয়াম' খোলেন।
১৮৯৯ সালের গ্রীষ্মে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান রঞ্জি। তিনি নিজের নামের সাথে জুড়ে দেন 'জো'—জো রঞ্জি স্মাইল। লন্ডনের বিখ্যাত সেসিল এবং স্যাভয় হোটেলে কারি শেফ হিসেবে কাজ করার পর তিনি নিউইয়র্কের পঞ্চম অ্যাভিনিউয়ের 'শেরি’স রেস্তোরাঁ’র মালিক লুইস শেরির আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসেন। স্বামী বিবেকানন্দের বক্তব্যের প্রভাবে নিউইয়র্কে ভারতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেলে লুইস শেরি তাঁকে রেস্তোরাঁতে নিয়োগ দেন।
রঞ্জি 'শেরি’স রেস্তোরাঁ’তে শুধু রান্নাই করতেন না, বরং খাবার পরিবেশনকেও একটি নাটকীয় পরিবেশনায় রূপ দিতেন। মাথায় নীল রেশমি পাগড়ি এবং সাটিনের কোট পরে তিনি গ্রাহকদের সামনে জিজ্ঞেস করতেন, 'সাহেব, কারি কি ঝাল হবে নাকি নরম?' তাঁর রান্নার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে নিউইয়র্কের অভিজাতরা তাঁর রেস্তোরাঁতে ভিড় করতেন।
১৯০১ সালে নিজস্ব রেস্তোরাঁ 'ওমর খৈয়াম' খোলার পর তিনি ভারতীয় পর্দা, ঝুলন্ত লণ্ঠন, পাগড়ি পরা কর্মী এবং রাজস্থানি বাদ্যযন্ত্রের সুরে রেস্তোরাঁটিকে প্রাচ্যের এক ঝলক রূপকথায় রূপান্তর করেন। তবে এক বছরের মধ্যে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে 'বেলুচিস্তানের আমিরের কাল্পনিক পুত্র' হিসেবে পরিচয় দেন। নানা আইনি জটিলতা ও বিতর্কিত বিয়ে করার পর, ১৯৩৭ সালে তাঁর শেষ স্ত্রী আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করলে তিনি ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যান।
"সাহেব, কারি কি ঝাল হবে নাকি নরম?" — রঞ্জি স্মাইল গ্রাহকদের কাছে জিজ্ঞেস করতেন তাঁর রেস্তোরাঁতে
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র), লন্ডন (ইংল্যান্ড)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জো রঞ্জি স্মাইল, লুইস শেরি, স্বামী বিবেকানন্দ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৫ বছর, ৩২৫ ফিফথ অ্যাভিনিউ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!