📌 ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি, জায়গার সংকট এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা সংকটের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুদের সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় জমেছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা মাত্র ৪৫টি থাকলেও, সেখানে বর্তমানে ২২২ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। অর্থাৎ অনুমোদিত শয্যার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি শিশু চিকিৎসা পাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২২২ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে, যা অনুমোদিত শয্যার (৪৫টি) চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি
- 📌 গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু ওয়ার্ডে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯৯ শিশু
- 📌 শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের ভিড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে
- 📌 হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি: ২৫৩টি অনুমোদিত পদে কর্মরত ১৭১ জন, ৮২টি পদ শূন্য
- 📌 শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সাজ্জাদ হায়দার শাহিন বলেছেন, অতিরিক্ত রোগী থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে
📰 বিস্তারিত
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা সংকটের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুদের সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। নিউমোনিয়া, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় জমেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু ওয়ার্ডে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯৯ শিশু। ওয়ার্ডটি ঘুরে দেখা যায়, জায়গার সংকটে একটি শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভিড়ে ওয়ার্ডে গাদাগাদি পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এক শিশু। শিশুটির মা ঝরনা বলেন, চিকিৎসা ও কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে পেলেও সব মেলেনি। প্রেসক্রিপশনের দরকারি কিছু ওষুধ বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনেরা চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের কথাও বলছেন। আনারুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘রাতে ২২০ থেকে ২৩০ জন রোগীর সেবায় মাত্র দুইজন নার্স দায়িত্ব পালন করেন। দুইজন মানুষের পক্ষে এত শিশুর যত্ন নেওয়া অসম্ভব। দ্রুত এই ওয়ার্ডে জনবল বাড়ানো দরকার।’
হাসপাতালের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স তাজনেহার বেগম বলেছেন, অমিকন, ওমিপ্রাজল, ডেক্সামেথাসন, মেরোপেনেম ও সেফট্রিয়াক্সনসহ প্রয়োজনীয় অধিকাংশ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হাসপাতালে মজুত রয়েছে। তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সাজ্জাদ হায়দার শাহিন। তিনি বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী থাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে হামের মতো অতি সংক্রামক ব্যাধি যাদের আছে, তাদের আমরা আলাদা করে চিকিৎসা দিচ্ছি।’
সাজ্জাদ হায়দার শাহিন আরও বলেছেন, শিশুদের অতিরিক্ত ঘেমে ঠান্ডা যাতে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ এবং এর পর সুষম গৃহজাত খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো ও ধুলাবালু থেকে দূরে রাখা জরুরি। শিশু খেতে না পারলে, বারবার বমি করলে, খিঁচুনি হলে বা অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিলম্ব না করে হাসপাতালে আনতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাজ্জাদ হায়দার শাহিন (শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ), তাজনেহার বেগম (ওয়ার্ডের ইনচার্জ), আনারুল ইসলাম (অভিভাবক), ঝরনা (শিশু মা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২২ (শিশু), ৪৫ (অনুমোদিত শয্যা), ৫ (গুণ), ৯৯ (নতুন ভর্তি শিশু), ২২০-২৩০ (রোগী), ২ (নার্স), ২৫৩ (অনুমোদিত পদ), ১৭১ (কর্মরত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!