📌 নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অধীনে প্রবিধানমালা ২০২৬ — ১৬ জুলাই গেজেট। চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, ড. লতিফুল বারী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ইমরান হাসান (রেস্তোঁরা মালিক সমিতি)। বিএফএসএ ২০২৪ গবেষণায় ৫০ স্থানে ৪৫০ নমুনায় ব্যাকটেরিয়া, বিবিএস হিসেবে ৪.৫ লাখ প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের রাস্তায়, অলি-গলিতে গড়ে ওঠা খাবারের দোকানগুলোকেও এখন থেকে তাদের ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে — খাবারের ব্যবসা করতে হলে বা এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেই লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিধান রেখে বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর আওতায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তৈরি করা 'নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬' গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে — বিধিমালা অনুযায়ী সড়ক বা ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা খাবারের দোকান, ছোট আকারের রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে খাদ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ত
- বিধিমালা: 'নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬' — নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর আওতায়; ১৬ জুলাই গেজেটে প্রকাশিত।
- আওতা: সড়ক/ফুটপাতের খাবার দোকান, ছোট রেস্টুরেন্ট, খাদ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী — সবাইকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে।
- নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম: "খুবই ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ — পর্যায়ক্রমে স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলোও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে তদারকির আওতায় আসবে।"
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী: টং দোকানগুলোর উপকরণ থেকে রেসিপি সব নিয়েই প্রশ্ন আছে — বিধিমালা হওয়ায় কাঠামোর ভেতর এলেও খাদ্য নিরাপদ কি না তা যাচাইয়ের সক্ষমতা সরকারের নেই।
- বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান: বিধিমালা একতরফাভাবে করা হয়েছে — "অথরিটির ক্ষমতা বেড়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই — ফুড সেফটি একটি বিশাল চেইন।"
- বিএফএসএ গবেষণা (২০২৪): ঢাকায় বিক্রি হওয়া ছোলামুড়ি, চটপটি, আখের রস, শরবত, মিশ্র সালাদ, স্যান্ডউইচে ডায়রিয়ার জন্য দায়ী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উচ্চমাত্রার উপস্থিতি — ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫০টি স্থান থেকে ৪৫০টি নমুনায় প্রতিটিতে ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো: দেশে খাদ্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে চার লাখ — হোটেল রেস্তোরাঁ, চা-স্টলসহ; ফার্স্ট ফুডের দোকান প্রায় ৬৭ হাজার।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের রাস্তায়, অলি-গলিতে গড়ে ওঠা খাবারের দোকানগুলোকেও তাদের ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে — পাশাপাশি খাবারের ব্যবসা করতে হলে বা এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেই লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিধান রেখে বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এই বিধিমালা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক বা ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা খাবারের দোকান, ছোট আকারের রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে খাদ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে। বাংলাদেশে রাস্তাঘাটে হাজার হাজার অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান আছে — এ ধরনের বহু দোকান ফুটপাতেই চুলা বসিয়ে রান্না করে খাবার বিক্রি করে, তবে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে ফার্স্ট ফুডের কত দোকান আছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী বলছেন, টং দোকান বলে পরিচিত এসব খাবারের দোকানগুলোর উপকরণ থেকে শুরু করে রেসিপি — সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন আছে: "বিধিমালাটি হওয়ায় এগুলো এখন একটা কাঠামোর ভেতর এলো — যদিও এগুলোর খাদ্য নিরাপদ কি না তা যাচাইয়ের সক্ষমতা সরকারের নেই।" নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম অবশ্য বলছেন, বিধিমালাটি হওয়ার কারণে এখন এসব দোকান নিবন্ধনের আওতায় আসবে এবং তাদের খাবারের মান যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে — "খুবই ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হয়েছে এটি। আমরা হয়তো একদিনেই সব পরিবর্তন করতে পারবো না। তবে পর্যায়ক্রমে স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলোও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে তদারকির আওতায় আসবে।"
তবে বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান বলছেন, বিধিমালাটি একতরফাভাবে করা হয়েছে এবং এতে শুধু লাইসেন্স বাণিজ্য বাড়বে — "এখানে অথরিটির ক্ষমতা বেড়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই — ফুড সেফটি একটি বিশাল চেইন। কোন ধাপে কীভাবে নিশ্চিত হবে তার কোনো ভিশনও এতে নেই।" বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় বিক্রি হওয়া জনপ্রিয় বিভিন্ন স্ট্রিট ফুডে উদ্বেগজনক মাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে — ২০২৪ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ছোলামুড়ি, চটপটি, আখের রস, শরবত, মিশ্র সালাদ এবং স্যান্ডউইচের মতো খাবারে ডায়রিয়ার জন্য দায়ী বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উচ্চমাত্রার উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫০টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ৪৫০টি নমুনা পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনাতেই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ হিসেব অনুযায়ী, দেশে খাদ্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে চার লাখ — এর মধ্যে হোটেল রেস্তোরাঁ ও চা-স্টলও আছে এবং ফার্স্ট ফুডের দোকান আছে প্রায় ৬৭ হাজার।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!