📌 জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নতুন শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণের দরপত্রে সিন্ডিকেটের কারসাজি ও একক দরদাতা নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নথি উদ্ধার করেছে
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণের দরপত্রে সিন্ডিকেটের কারসাজি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এনসিটিবির কর্মকর্তা ও প্রেস মালিকদের সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে দরপত্রের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়মে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে নথি উদ্ধার করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এনসিটিবির নতুন শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণের দরপত্রে সিন্ডিকেটের কারসাজি ও একক দরদাতা নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে মাত্র ৩০টিতে একক দরদাতা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন, অন্য ১৩টিতে দুটি এবং বাকি দুটিতে তিনটি করে প্রস্তাব পড়েছে।
- 📌 ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের ফর্মাপ্রতি গড় মুদ্রণমূল্য ২০২৬ সালের তুলনায় ৪৩.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে (২.৩১ টাকা থেকে ৩.৩২ টাকা)।
- 📌 সিন্ডিকেটের নাম এসেছে মুদ্রণশিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসারুজ্জামান রুবেল, প্রেস মালিক দুলাল সরকার, এসএম মহসিন, মিন্টু মোল্লা, হুমায়ুন কবির, শেখ সিরাজ, পারভেজ ও সুহেলের।
- 📌 এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ রয়েছে দরপত্রে অনিয়ম ও পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নে ভূমিকা রাখার।
📰 বিস্তারিত
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে এনসিটিবির দরপত্রের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণ ও সরবরাহের জন্য আহ্বান করা ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে মাত্র ৩০টিতে একক দরদাতা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। অন্য ১৩টি দরপত্রে দুটি করে এবং বাকি দুটিতে তিনটি করে প্রস্তাব পড়েছে। এতে প্রতিযোগিতার অভাব ও সরকারি অর্থের লুটপাটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান যুগান্তরকে বলেছেন, এবার বইয়ের দরপত্রে কোনো প্রতিযোগিতা হয়নি। এনসিটিবি ও কিছু মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত বছর কোনো একক দরদাতা ছিল না। কিন্তু এবার পুরো চক্র ফের সক্রিয় হয়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করেছে।”
সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রমা ও ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেসের মালিক এসএম মহসিন বলেছেন, “আমি এবার খুব বেশি কাজ পাইনি। তবে অনিয়মের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় ১২০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছেন। এছাড়া, প্রেস চক্রটি এনসিটিবির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) মোহাম্মদ আবু নাসের টুকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দরপত্রে বিধিবহির্ভূতভাবে দর বাড়ানো এবং গোপন দর ফাঁসের। তাকে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
"আমরা যথাসময়ে বই দেওয়ার চেষ্টা করছি। যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। বই ছাপানোর চুক্তি অনুযায়ী, ৪০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ বই সরবরাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি প্রেস বই সরবরাহ করছে না।"
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “বই সরবরাহের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কিছু প্রেস চুক্তি ভঙ্গ করছে। তবে জরিমানার বিধান রয়েছে।” তবে অভিযোগের পিছনে সিন্ডিকেটের কারসাজির কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফায়েল খান, এসএম মহসিন, মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু, অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৫%, ৩০০ কোটি টাকা, ৪৫টি দরপত্র, ৩০টি একক দরদাতা, ২.৩১ টাকা থেকে ৩.৩২ টাকা (৪৩.৭% বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!