📌 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ পদক্ষেপ মেধা মূল্যায়নকে দুর্বল করবে এবং প্রশাসনে অনিয়মের পথ সুগম করবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ পদক্ষেপ মেধা মূল্যায়নকে দুর্বল করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের পথ উন্মুক্ত করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা মেধা মূল্যায়নকে দুর্বল করবে
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, লিখিত পরীক্ষা বস্তুনিষ্ঠভাবে একজন প্রার্থীর জ্ঞান ও মেধা মূল্যায়ন করে, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উপর নির্ভরশীল
- 📌 ভাইভা নম্বরের ওজন বৃদ্ধি করলে মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হবে
- 📌 জামায়াত বলেছে, প্রক্সি, জালিয়াতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে ভাইভা নম্বর বাড়ানো কোনো সমাধান নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে
- 📌 দলের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ দলীয়করণের সংস্কৃতির অবসান চেয়েছিল, এখন নতুন করে তা সুগম করার চেষ্টা করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির উদ্যোগে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করার সুযোগ দেয়।
পরওয়ার উল্লেখ করেছেন, লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করা সম্ভব, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেছেন, ভাইভার নম্বরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। জামায়াত প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, অতীতে সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ অবসান চেয়েছিল। তিনি বলেছেন, একটি সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা ধারণ করা, নতুন কোনো পদ্ধতিতে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা নয়।
"সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ থেকে ২০তম গ্রেড, ৫০ নম্বর (লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!