📌 সরকারি ক্রয় আইনের দ্বিতীয় সংশোধনী খসড়ায় নতুন ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দরপত্র বাছাইয়ে অভিজ্ঞতার পরিবর্তে মান ও স্থায়িত্বের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হতে পারে
সরকারি ঠিকাদারি পদ্ধতিতে নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান এবং সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি ক্রয় আইনের দ্বিতীয় সংশোধনী খসড়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। খসড়াটি আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য শর্ত শিথিল**: দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বা বড় চুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়েছে। শুধু কাজের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ শর্ত আরোপ করা যাবে।
- 📌 **মান ও স্থায়িত্বের উপর গুরুত্ব**: নির্মাণকাজ ও ভৌত সেবা কেনার ক্ষেত্রে কাজের মান ও স্থায়িত্বের জন্য ৮০% ও দামের জন্য ২০% নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- 📌 **তালিকাভিত্তিক দরপত্র বাধ্যতামূলক**: নির্ধারিত মূল্যসীমার মধ্যে সরকারি কেনাকাটায় এলাকাভিত্তিক তালিকাভিত্তিক দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক করা হবে।
- 📌 **সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি**: ২০ বছরের মধ্যে বৈধ নিবন্ধন থাকলেও সুযোগ না পাওয়ায় সরকারি ক্রয়ে অংশ নিতে না পেরে এমন ব্যক্তিদের "সুযোগবঞ্চিত" শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
- 📌 **আইন সংশোধনের পেছনে কারণ**: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্তমান শর্তের কারণে একই ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। নতুন ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আইন সংশোধন করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সরকারি ক্রয় আইনের সংশোধনী খসড়ায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য শর্ত সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, বেশি বার্ষিক লেনদেন বা বড় চুক্তির অভিজ্ঞতা চাওয়া যাবে না। তবে কাজের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ শর্ত আরোপ করা যাবে। উদাহরণস্বরূপ, নতুন প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা দেখাতে হবে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় শর্ত দিয়ে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা যাবে না।
খসড়ায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ করার জন্য নতুন উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্মাণকাজ ও ভৌত সেবা কেনার ক্ষেত্রে কাজের মান ও স্থায়িত্বের জন্য ৮০% ও দামের জন্য ২০% নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এভাবে সবচেয়ে কম দাম দেওয়া প্রতিষ্ঠানই কাজ পাবে না, বরং সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় কাজ পাবে।
এছাড়াও, সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর জন্য "সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তি" নামে একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হওয়ার আগের ২০ বছরের মধ্যে বৈধ নিবন্ধন থাকলেও সুযোগ না পাওয়ায় সরকারি ক্রয়ে অংশ নিতে না পেরে এমন ব্যক্তিদের এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে কাকে সুযোগবঞ্চিত হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কী প্রমাণ লাগবে, তা বিধিতে নির্ধারণ করতে হবে।
"বিদ্যমান শর্তের কারণে ঘুরেফিরে একই ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিচ্ছেন। নতুন ঠিকাদার ও সরবরাহকারী হিসেবে আগ্রহী অনেকে অংশ নিতে পারছেন না। এসব বিষয় পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
সরকারি ক্রয় আইনের প্রথম সংশোধনী ২১ সেপ্টেম্বর গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল। এবার ওই অধ্যাদেশের অধিকাংশ বিধান বহাল রেখে আরও কিছু পরিবর্তনসহ দ্বিতীয় সংশোধনী আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) গত ২৯ অক্টোবর খসড়াটির ওপর জনমত আহ্বান করেছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সাবেক বিপিপিএ মহাপরিচালক মো. ফারুক হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ পৃষ্ঠা, ৩৬টি ধারা, ৮০% মান ও স্থায়িত্ব, ২০% দাম, ২০ বছরের মধ্যে সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!