📌 সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে শিক্ষাবিদরা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আশা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধান সংশোধনে শিক্ষাবিদদের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সরকারের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠকে শিক্ষাবিদরা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষাবিদরা সংবিধানকে টেকসই ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আশা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কিন্তু অংশগ্রহণ না করলেও প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
- 📌 শিক্ষাবিদরা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, স্বৈরতন্ত্র বন্ধ করার জন্য সংবিধানে এই পরিবর্তন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
- 📌 বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য পৃথক সাংবিধানিক আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
- 📌 উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে শ্রেণি ও এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- 📌 নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ ও সংবিধানে শব্দ পরিবর্তনের প্রস্তাব (উপজাতি → ভিন্ন জাতিসত্তা, মহিলা → নারী) দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
- 📌 জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, শতভাগ ঐকমত্য সম্ভব নয়, তবে যত বেশি ঐকমত্য হবে, সংবিধান তত বেশি টেকসই হবে।
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে।
📰 বিস্তারিত
সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শিক্ষাবিদরা সংবিধানের বিভিন্ন অংশে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশেষত, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়গুলোতে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৈঠকে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য উচ্চ আদালত থেকে পৃথক সাংবিধানিক আদালত গঠন করা দরকার। এছাড়া, সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এবং সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। শিক্ষাবিদরা আরও বলেছেন, রাষ্ট্রের যেসব সংস্থা বল প্রয়োগ করে, তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, সংবিধানকে টেকসই ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য যত বেশি ঐকমত্য হবে, তত ভালো হবে। তিনি বলেন, শতভাগ ঐকমত্য সম্ভব নয়, কিন্তু শিক্ষাবিদ ও সরকারের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলে সংবিধানকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেছেন, নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সংবিধানে কিছু পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’, ‘উপজাতি’র পরিবর্তে ‘ভিন্ন জাতিসত্তা’ এবং ‘উপসম্প্রদায়ের’ পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রদায়’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষাবিদদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এবং অন্যান্য শিক্ষাবিদরা।
"বিতর্ক তৈরি হবে কি না জানি না, তবে বিতর্ক করার একটা সুযোগ থাকবে। আমরা সব সময় আহ্বান জানাব, বিরোধী দল যেন আমাদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মতামত দেয়।"
"শতভাগ ঐকমত্য সম্ভব নয়। তবে যত বেশি ঐকমত্য হবে, সংবিধান তত বেশি টেকসই ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!