📌 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের মধ্যেও চুক্তি সই হয়, যেখানে শ্রমিক সংগঠন ও বামপন্থী দল প্রতিবাদ করে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ৮ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছর জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে
- 📌 চুক্তিতে সই করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম
- 📌 বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ এই টার্মিনালে পরিচালিত হয়
- 📌 বিক্ষোভের মধ্যেও চুক্তি সই হয়, শ্রমিক সংগঠন ও বামপন্থী দল প্রতিবাদ করে
- 📌 চুক্তি মেয়াদ ১৫ বছর, এর মধ্যে মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব যদি দুই পক্ষ সম্মত হয়
- 📌 প্রথম ১০ বছরে ডিপি ওয়ার্ল্ড ১০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে টার্মিনাল আধুনিকায়নে
- 📌 বন্দর কর্তৃপক্ষ ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পাবে, যার ২৫ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরকালে ও বাকি ৭৫ শতাংশ পরিচালনা শুরু পূর্বে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছর জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ৮ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে চালু চারটি টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই নিউমুরিং টার্মিনালে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ ওঠানো-নামানো হয়। ২০০৭ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া এই টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী ও একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যায়। বর্তমানে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাইরের সড়কে বিক্ষোভ করে সিপিবি, বাসদসহ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন। পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। চুক্তি সইয়ের পর চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। তারা চুক্তি বাতিল করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় আগামী সোমবার বন্দরের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হবে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই পক্ষ সম্মত হলে আলোচনার ভিত্তিতে এই মেয়াদ বাড়ানো যাবে। তবে কোনো পক্ষ রাজি না হলে চুক্তি ১৫ বছরেই শেষ হবে।
"আগামী ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হবে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে।"
বন্দর সূত্র জানায়, টার্মিনালটি বুঝে নেওয়ার আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কিছু অত্যাবশ্যকীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। টার্মিনাল পরিচালনায় স্থানীয়ভাবে একটি কোম্পানি গঠন করে কাগজপত্র বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশগত সমীক্ষা ও ছাড়পত্র জমা দিতে হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ একজন স্বতন্ত্র প্রকৌশলী নিয়োগ দেবে যিনি যন্ত্রপাতিসহ সম্পদের অবস্থা পর্যালোচনা করে বন্দরকে একটি প্রতিবেদন দেবেন। এরপর টার্মিনাল পরিচালনা শুরু করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।
নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, প্রথম ১০ বছরে টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। বন্দর কর্তৃপক্ষ এককালীন অগ্রিম ফি হিসেবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পাবে। যার ২৫ শতাংশ অর্থ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ পরিচালনা শুরুর আগে পরিশোধ করার কথা। ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কনটেইনার পরিচালনা থেকে গড় আয়ের ভিত্তিতে রাজস্বের স্তরভেদে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ভাগ পাবে চট্টগ্রাম বন্দর। বর্তমানে প্রতি একক কনটেইনারে ১৪০ থেকে ১৫০ মার্কিন ডলার আয় হয় বন্দরের। এই আয়ের ৬৭ শতাংশ হিসাবে বন্দর পাবে ৯৩ ডলার ৮০ সেন্ট থেকে ১০০ ডলার ৫০ সেন্ট।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, রাজধানী আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান, এসা কাজিম, শেখ রবিউল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর, ৪৪ শতাংশ, ১০০০ কোটি টাকা, ৬০০ কোটি টাকা, ২৫ শতাংশ, ৭৫ শতাংশ, ৪০-৬৭ শতাংশ, ১৪০-১৫০ মার্কিন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!