📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও সকল পক্ষের প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বিশেষ কমিটি উদ্যোগ নিচ্ছে। সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মতামত সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকের পর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন। তিনি জানান, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান করেছে।
- 📌 গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, বিচারক, আইনজীবী, শহীদ পরিবার ও বঞ্চিতদের মতামত সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব ও 'নোট অব ডিসেন্ট' বিবেচনা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
- 📌 দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের পথে অগ্রসর হতে চাইলে, সাংসদীয় প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষের কোনো প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।
- 📌 বিরোধী দলেরও আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
- 📌 ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে যেটি জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিবেচিত হবে, জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপগুলো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট প্রস্তাবনা পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমতও লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ কোন ধাপে কীভাবে এই সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে বহুমুখী বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বৈঠকে গণমাধ্যম সেক্টরের বিস্তৃত প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করা হয়। এতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও বার্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অংশ নেন। মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমের মধ্যে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। পর্যায়ক্রমে সমাজের সর্বস্তরের সামাজিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিশিষ্টজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারকদের পাশাপাশি গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত ও নিপীড়িত হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সরাসরি পরামর্শ সংগ্রহ করা হবে। সবশেষে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের শীর্ষ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিশদ পর্যালোচনার পর কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করবে।
বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মতো ইউনিটারি রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, মন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ঐক্যমত্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথেই অগ্রসর হতে চান। তবে আইনসভা বা সরকারি দলের কোনো উপযুক্ত সংশোধন আনলে সেটিও বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়গুলোও আলোচিত হয়। মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না। তিনি বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য জোরালো আহ্বান জানান।
"এ যাবৎকাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ সংক্রান্ত কিছু স্পষ্ট প্রস্তাবনার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমতও পরিলক্ষিত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ সেপ্টেম্বর (২০২৬), ১৭ বছর, ১০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!