📌 কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। তিনি অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান এবং বিকল্প উৎস থেকে সারের সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন
ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানান, দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। সরকারি গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার নিরাপদ মজুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশে সারের মোট চাহিদা ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন, যা সরবরাহের তুলনায় বেশি নয়
- 📌 সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে
- 📌 আন্তর্জাতিক পাইপলাইনে আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন সার সরবরাহের অপেক্ষায়
- 📌 দেশের ৭টি সার কারখানার মধ্যে ৬টি গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হচ্ছে
- 📌 অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন মাস্টার ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ
📰 বিস্তারিত
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী জানান, দেশে বছরে সারের মোট চাহিদা ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ টন বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক পাইপলাইনে আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন সার সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। তবে অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে একজন বিএডিসির, একজন বিসিআইসির এবং একজন নতুন মাস্টার ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে একটি কৃষকবান্ধব নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাইস মিলে অবৈধভাবে জমিয়ে রাখা সার উদ্ধারসহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ সার স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। কিন্তু তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের ৭টি সার কারখানার মধ্যে ৬টিই বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে সার আমদানিতে কিছু সাময়িক বাধা সৃষ্টি হলেও বিকল্প হিসেবে কানাডা ও মরক্কো থেকে দ্রুত সার আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত সার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব।
‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে স্পষ্টভাবে বলছি, যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি, সত্য বলিতেছি এবং সত্য বলিতেছি।’
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কলমাকান্দা-দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ও মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা পুরোনো ডিলারশিপ এবং আঞ্চলিক বিতরণ বৈষম্য নিয়ে মন্ত্রীর জবাব দাবি করেন। জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট রুখতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বিরোধীদলের সদস্যের রংপুর অঞ্চলের সার সংকটের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে তিনি গত অর্থবছরের আগস্টে দেওয়া ১০ হাজার ৫৯০ টনের বিপরীতে চলতি অর্থবছরে সরবরাহ বাড়িয়ে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন করার তুলনামূলক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ অধিবেশন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন (কৃষিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ লাখ মেট্রিক টন (সরকারি গুদামে সার মজুত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন (বছরে সারের মোট চাহিদা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন (আন্তর্জাতিক পাইপলাইনে সার সরবরাহের অপেক্ষায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!