📌 প্রবাসী সাইফ মিঠু ১৭ বছর লন্ডনে থাকার পর যুক্তরাজ্যের কেন্টে বসবাস করছেন। তিনি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার গড়ে তুলেছেন। বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প শুরু করেছেন তিনি
১৭ বছর লন্ডনে কর্মজীবন অতিবাহিত করে যুক্তরাজ্যের কেন্টে বসবাসরত সাইফ মিঠু প্রবাসী জীবনে নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় একটি বিপ্লবী প্রকল্প শুরু করেছেন। তিনি এ পর্যন্ত ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার গড়ে তুলেছেন, যেখানে প্রতিটি বিদ্যালয়ে বয়সোপযোগী বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জাগ্রত করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬৭টি পাঠাগার**: কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার স্থাপন করেছেন সাইফ মিঠু।
- 📌 **১৭ বছর প্রবাস**: যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও কেন্টে ১৭ বছর বসবাসের পর এই প্রকল্প শুরু করেছেন তিনি।
- 📌 **বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষা**: প্রতিটি পাঠাগারে ১০০ থেকে ১৫০টি বই রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগ দেয়।
- 📌 **স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থায়ন**: এয়ারবিএনবি থেকে ভাড়া আয় এবং বন্ধু-পরিচিতদের সহযোগিতায় প্রকল্প চালানোর অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
- 📌 **শিক্ষকদের ভূমিকা**: সফলতার জন্য শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের বই ইস্যু ও ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
📰 বিস্তারিত
সাইফ মিঠুর এই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়েছিল তার নিজের ছেলেবেলার স্মৃতি থেকে। তার মেয়ে আরিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন। স্কুল থেকে প্রতিদিন তিনটি বই নিয়ে আসতেন আরিয়া। বই পড়ার অভ্যাসের কথা মনে পড়লে সাইফ মিঠু ভাবলেন, কুমিল্লার গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কি এমন সুযোগ পায়? তিনি লালমাই উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর খোঁজ নেন এবং দেখলেন, যদিও পাঠ্যবই রয়েছে, কিন্তু বয়সোপযোগী বইয়ের অভাব রয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চে তিনি ‘বিদ্যা বিকাশ পাঠাগার’ প্রকল্প শুরু করেন। প্রথমে ১৫টি বিদ্যালয়ে ১৫০টি করে বই বিতরণ করেন। পরে ৫২টি বিদ্যালয়ে ১০০টি করে বই পৌঁছে দেন। এভাবে ২০২৬ সালের মধ্যে লালমাই উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাগার স্থাপন সম্পন্ন হয়।
অর্থায়নের জন্য সাইফ মিঠু নিজের বাসায় একটি ঘর এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দেন। ভাড়া আয় থেকে প্রকল্পের বই কেনার অর্থ সংগ্রহ করেন। বন্ধু-পরিচিত ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতাও এই প্রকল্পের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সমন্বয়করা বিদ্যালয়গুলোর সাথে যোগাযোগ, বই বিতরণ ও পাঠাগার উদ্বোধনের কাজ পরিচালনা করেন।
সাইফ মিঠু বলেন, এই প্রকল্পের সফলতা শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আশা করেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বই বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন বই ইস্যু করবেন। এভাবে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন।
"আমাদের বাসায় একটি ছোট ঘর ছিল, যেটি আমি পড়াশোনা ও ব্যায়ামের ঘর হিসেবে ব্যবহার করতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, ঘরটি এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দেব। ভাড়া থেকে উপার্জিত আয় বিদ্যা বিকাশের বই কেনা ও পাঠাগার স্থাপনের কাজে ব্যবহার করব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমাই উপজেলা, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফ মিঠু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭টি পাঠাগার, ১৭ বছর প্রবাস, ১৫০টি বই (প্রথম ১৫টি বিদ্যালয়ে), ১০০টি বই (বাকি বিদ্যালয়ে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!