📌 বৃষ্টির এক দিনে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি ধরে রাখা নুহাশপল্লীতে পৌঁছাতে গিয়ে অপরিচিত মানুষের আন্তরিকতা আর সাহায্যের গল্প উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে
বৃষ্টির এক দিনে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিধন্য নুহাশপল্লীতে পৌঁছাতে গিয়ে অপরিচিত মানুষের আন্তরিকতা আর সাহায্যের মুখোমুখি হন লেখিকা। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে যানজট আর বৃষ্টির মধ্যেই তিনি খুঁজে পান মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা থেকে নুহাশপল্লী যেতে যানবাহন বদল ও যানজটের কারণে বিকেল পর্যন্ত সময় লেগেছে।
- 📌 বৃষ্টির মধ্যেই দুই নারী লেখিকাকে পথ দেখিয়ে সাহায্য করেন এবং তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁদের বাড়িতে রাত কাটানোর অনুরোধ করেন।
- 📌 নুহাশপল্লীতে সংস্কারের কাজ চলায় প্রবেশে বাধা থাকলেও পরিচিত সূত্রে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলেছে।
- 📌 লেখিকা হুমায়ূন আহমেদের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মৃতিচারণ করেন।
- 📌 ভেজা কাগজ থেকে পাওয়া 'বাবাকে, নিষাদ' লেখাটি হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- 📌 লেখিকার সঙ্গে গ্রামের দুই নারীর আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যাঁদের একজন তাঁর মেয়ের নাম রাখেন 'বৃষ্টি'।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের মাঝেই হঠাৎ করে লেখিকার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদের কোনো উপন্যাসের চরিত্র হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়েন নুহাশপল্লীর উদ্দেশে। বেলা একটার দিকে যাত্রা শুরু করলেও প্রচণ্ড রোদ আর পরে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে যানজটে আটকে যান তিনি। কয়েকবার যানবাহন বদল করতে করতে বিকেল গড়িয়ে যায়। এমন সময় দুই নারী লেখিকাকে জিজ্ঞেস করেন নুহাশপল্লীর পথ সম্পর্কে। তাঁরা জানান তাঁরাও সেখানে নামবেন এবং লেখিকাকে তাঁদের সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
বাস থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গেই হাঁটতে শুরু করেন লেখিকা। তখনো অবিরাম বৃষ্টি চলছিল। পথ চলতে চলতে তাঁরা লেখিকার জন্য ভীষণ দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন। কারণ দেশের পরিস্থিতি ভালো না থাকায় একা মেয়ের জন্য রাতের যাত্রা বিপজ্জনক হতে পারে। একজন লেখিকাকে তাঁদের বাড়িতে রাত কাটানোর অনুরোধ করেন। লেখিকা জানান, তিনি তখনো নুহাশপল্লী ঘুরে দেখতে চান। কিন্তু তাঁদের আন্তরিকতা আর মমতা লেখিকাকে তাঁদের বাড়িতে রাত কাটাতে রাজি করায়।
সন্ধ্যার একটু আগে লেখিকা নুহাশপল্লীতে পৌঁছান। সেখানে সংস্কারের কাজ চলায় প্রবেশে বাধা থাকলেও পরিচিত একজন লেখকের মাধ্যমে মেহের আফরোজ শাওনকে ফোন করেও কোনো লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যানেজারকে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলে। অনেকক্ষণ একা বসে থাকেন লীলাবতী দিঘির পাড়ে। হুমায়ূন আহমেদের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মৃতিচারণ করেন। সমাধির ওপর তখনো শুকিয়ে না যাওয়া ফুলগুলো পড়ে ছিল। এমন সময় ভেজা কাগজ থেকে পাওয়া 'বাবাকে, নিষাদ' লেখাটি তাঁকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
"আমাদের বাড়ি নুহাশপল্লীর কাছেই। তুমি আজ রাতটা আমাদের বাড়িতে থেকে যাও। দেখো মা, আমাদেরও তো একটা মেয়ে আছে। আজ যদি ও এমন বিপদে পড়ত?"
রাতে লেখিকা তাঁদের বাড়িতে যান। পরিচয় হয় তাঁদের মেয়ের সঙ্গে, যার নাম 'বৃষ্টি'। গ্রামের মাটির ঘরে প্রবেশ করে লেখিকার শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে। পরদিন ভোরে লেখিকা পাশের বিল দেখতে যান। প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন তিনি। ফিরে এসে আরও দুজন মানুষের সঙ্গে গল্প করেন, যাঁরা হুমায়ূন আহমেদের বহুবার অতিথি ছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নুহাশপল্লী, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখিকা, দুই নারী, মেহের আফরোজ শাওন, হুমায়ূন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লেগেছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!