📌 বিমান ভ্রমণের সময় সঙ্গীর সঙ্গে বিরক্তি এড়াতে ব্রিটিশ সাংবাদিকদের উদ্ভাবিত অভিনব কৌশল ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’। বিমানবন্দরে সাময়িক আলাদা থাকার এই ধারণা সম্পর্কের শান্তি রক্ষায় কার্যকর হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অনেক দম্পতির মধ্যেই দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন অভ্যাস। কেউ ঘণ্টাখানেক আগে পৌঁছে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে গেটে পৌঁছেই স্বস্তি পান। এই ভিন্নতা থেকে তৈরি হওয়া বিরক্তি বা ছোটখাটো ঝগড়া এড়াতে সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নামের অভিনব কৌশল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ হলো বিমান ভ্রমণের সময় সঙ্গীর সঙ্গে সাময়িক আলাদা থাকার অভিনব কৌশল
- 📌 ২০২৫ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সাংবাদিক হিউ অলিভার সর্বপ্রথম এই ধারণার প্রচলন করেন
- 📌 ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ২০২৩ সালের জরিপে ৫৪ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন বিমানবন্দরে গেলে তাঁদের আচরণে পরিবর্তন আসে
- 📌 মার্কিন টেলিভিশন তারকা কেলি রিপা ও তাঁর স্বামী মার্ক কনসুয়েলোস নিয়মিত ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ পালন করেন
📰 বিস্তারিত
বিমানবন্দরে একসঙ্গে ভ্রমণে বের হলেও অনেক দম্পতির মধ্যেই দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন অভ্যাস। কেউ সময় হাতে নিয়ে ঘণ্টাখানেক আগেই পৌঁছে নিশ্চিন্ত থাকতে চান, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে গেটে পৌঁছেই স্বস্তি পান। কেউ বিমানবন্দরের দোকানে ঘুরে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, কেউ আবার নিরিবিলি কোথাও বসে থাকতে পছন্দ করেন। এই ভিন্নতা থেকে তৈরি হওয়া বিরক্তি বা ছোটখাটো ঝগড়া এড়াতে সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নামের অভিনব কৌশল।
২০২৫ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সাংবাদিক হিউ অলিভার ‘সানডে টাইমস’-এর ভ্রমণবিষয়ক কলামে প্রথম এই ধারণার কথা তুলে ধরেন। তিনি একে নাম দেন ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’। নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা হয়ে থাকা এবং পরে গেটে বা প্লেনে আবার একত্র হওয়াই হলো এই কৌশল। অলিভার তাঁর লেখায় একে ‘সুখী সম্পর্কের গোপন রহস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অলিভারের লেখাটি পাঠকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কয়েক দিনের মধ্যেই ‘আফার’ ম্যাগাজিনে ‘হোয়াট ইজ এয়ারপোর্ট ডিভোর্স অ্যান্ড শুড ইউ ট্রাই ইট?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে শুধু শব্দটির উৎপত্তিই নয়, এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণও তুলে ধরা হয়। ভ্রমণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই ধারণাকে কার্যকর বলে মনে করেন।
‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নামের মধ্যে ‘ডিভোর্স’ বা বিবাহবিচ্ছেদের উল্লেখ থাকলেও এটি সত্যিকারের বিচ্ছেদ নয়। বরং ভ্রমণ যাতে বিভীষিকায় পরিণত না হয় এবং একজন আরেকজনের প্রতি বিরক্ত হয়ে না ওঠেন, সে জন্য কিছু সময়ের জন্য আলাদা থাকাকেই বোঝানো হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরে মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ২০২৩ সালের জরিপে প্রায় ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে গেলে তাঁদের আচরণ বা ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন আসে।
মার্কিন টেলিভিশন তারকা কেলি রিপা ও তাঁর স্বামী মার্ক কনসুয়েলোস ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁদের অনুষ্ঠান ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড মার্ক’-এ ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের ভ্রমণের ধরন আলাদা হওয়ায় তাঁরা নিয়মিত এই কৌশল অনুসরণ করেন। মার্ক অনেক আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পছন্দ করেন, আর রিপা তুলনামূলক দেরিতে যেতে স্বচ্ছন্দ।
"এয়ারপোর্ট ডিভোর্স কোনোভাবেই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কৌশল নয়। বরং সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার জন্য নেওয়া ছোট্ট একটি বিরতি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিমানবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হিউ অলিভার, কেলি রিপা, মার্ক কনসুয়েলোস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!