📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণকারী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রের অমর সুরস্রষ্টা। তাঁর বংশের ঐতিহ্য থেকে শুরু করে কলকাতার রাজসভার সুরে গান থেকে বেহালা বাজানো পর্যন্ত তাঁর জীবন একটি সঙ্গীতের কাহিনি। প্রথম আলোর সাময়িকীতে ২০০১ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত নিবন্ধে তাঁর জীবন ও কর্মের গল্প তুলে ধরা হয়েছে
বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অমর নামের অধিকারী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাঈদ আহমদের জীবন ও কর্মের গল্প একটি সঙ্গীতের মহাকাব্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই সুরসম্রাটের বংশের ঐতিহ্য ছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাথে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর বাবা সদোর হোসেনের পিতামহ হোসেন খাঁ ছিলেন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। সাফদার হোসেন খাঁ, যিনি রাধাকান্ত নামে পরিচিত ছিলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিখ্যাত গান ‘রাধার বন্দনা’ এবং ধামারের পদ রচনা করেছিলেন। তিনি ত্রিপুরার রাজার সভাগায়ক ছিলেন এবং তাঁর পাঁচ ছেলের মধ্যে আফতাবউদ্দিন খাঁ, আলাউদ্দিন খাঁ এবং নায়েব আলী খাঁ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে জন্মগ্রহণকারী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রের অমর সুরস্রষ্টা।
- 📌 তাঁর বংশের ঐতিহ্য থেকে শুরু করে কলকাতার রাজসভার সুরে গান থেকে বেহালা বাজানো পর্যন্ত তাঁর জীবন একটি সঙ্গীতের কাহিনি।
- 📌 প্রথম আলোর সাময়িকীতে ২০০১ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত নিবন্ধে তাঁর জীবন ও কর্মের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে তাঁর বাবা আদর করে ডাকতেন ‘আলম’—অর্থ পৃথিবী।
- 📌 কলকাতার নাদু গোপালের শিষ্য হয়ে তিনি ১২ বছর সাধনা করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীরে প্রবেশ করেন।
- 📌 গুরুর মৃত্যুর পর তিনি বেহালা বাজানো শিখেন এবং মিনার্ভা থিয়েটারে চাকরি পান।
- 📌 রাজা জগৎকিশোরের রাজসভায় বাজনা শোনানোর সুযোগ পেয়ে তিনি ওস্তাদ আহমাদ আলী খাঁর কাছে সরোদ বাজনা শিখেন।
📰 বিস্তারিত
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বংশের ঐতিহ্য ছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাথে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর বাবা সদোর হোসেনের পিতামহ হোসেন খাঁ ছিলেন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। সাফদার হোসেন খাঁ, যিনি রাধাকান্ত নামে পরিচিত ছিলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিখ্যাত গান ‘রাধার বন্দনা’ এবং ধামারের পদ রচনা করেছিলেন। তিনি ত্রিপুরার রাজার সভাগায়ক ছিলেন। তাঁর পাঁচ ছেলের মধ্যে আফতাবউদ্দিন খাঁ, আলাউদ্দিন খাঁ এবং নায়েব আলী খাঁ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আফতাবউদ্দিন খাঁ বাঁশি, তবলা, হারমোনিয়াম এবং অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন। একদিন কলকাতার ভবানীপুরে নাটোরের মহারাজা যোগীন্দ্রনাথের প্রাসাদে তিনি বেহালা বাজাচ্ছিলেন। মহারাজা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁর অসামান্য বাজনা শুনে পাখিরা ঘরে ঢুকতে শুরু করে। মহারাজা যোগীন্দ্রনাথ তাঁকে সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিকতার সিদ্ধপুরুষ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে তাঁর বাবা আদর করে ডাকতেন ‘আলম’—অর্থ পৃথিবী। তিনি সঙ্গীত দিয়ে পৃথিবী জয় করেছিলেন। একদিন তিনি ঢাকায় পালিয়ে আসেন এবং হামখাম থিয়েটারে যোগ দেন। কিন্তু কলকাতার সঙ্গীত জগত তাঁকে আকর্ষণ করে। কলকাতার নাদু গোপালের শিষ্য হয়ে তিনি ১২ বছর সাধনা করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীরে প্রবেশ করেন। গুরুর মৃত্যুর পর তিনি বেহালা বাজানো শিখেন এবং মিনার্ভা থিয়েটারে চাকরি পান। তিনি ‘মিনার্ভা লোকো’ নামে বিখ্যাত বেহালাবাদক অমর দাস বাবুর কাছে বেহালা বাজানো শিখেন এবং নন্দলাল নামের এক মৃদঙ্গবাদকের কাছে পাখোয়াজ বাজানো শিখেন।
একদিন তিনি রাজা জগৎকিশোরের রাজসভায় বাজনা শোনানোর সুযোগ পান। রাজা তাঁকে যথেষ্ট সম্মান দেখালেন। এই সভাতেই তিনি ওস্তাদ আহমাদ আলী খানের সুরের বানান শুনেন এবং তাঁর কাছে সরোদ বাজনা শিখতে শুরু করেন। তাঁর জীবন ও কর্মের গল্প প্রথম আলোর সাময়িকীতে ২০০১ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে।
"রাধার বন্দনা"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিবপুর গ্রাম, কলকাতা, ঢাকা, ত্রিপুরার রাজসভা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, সদোর হোসেন, সাফদার হোসেন খাঁ, আফতাবউদ্দিন খাঁ, নাদু গোপাল, রাজা জগৎকিশোর, ওস্তাদ আহমাদ আলী খাঁ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ ডিসেম্বর (২০০১), ১২ বছর, ১০৩ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!