📌 সরোদবাদক ও রাধিকামোহন মৈত্রের জীবনীকার সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকারে জানা যায়, চার বছর বয়সে রাধিকামোহন মৈত্রের সরোদ শিক্ষা শুরু হয় ওস্তাদ মোহাম্মদ আমীর খাঁর কাছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেন ওস্তাদ আমীর খাঁর অদ্ভুত সাধন ও রাধিকামোহনের শিক্ষাপ্রাপ্তির অদ্ভুত ঘটনা
সরোদবাদক ও রাধিকামোহন মৈত্রের জীবনীকার সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকারে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মহান সাধক ওস্তাদ মোহাম্মদ আমীর খাঁর অদ্ভুত জীবন ও রাধিকামোহন মৈত্রের শিক্ষাপ্রাপ্তির গল্প উন্মোচিত হয়েছে। সোমজিৎ দাশগুপ্তের মুখে জানা যায়, ওস্তাদ আমীর খাঁ ছিলেন এমন একজন ঋষি যিনি বিশ্বরূপ দর্শনের অধিকারী ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওস্তাদ মোহাম্মদ আমীর খাঁকে বলা হতো বালকৃষ্ণের সঙ্গে থাকেন, যিনি বিশ্বরূপ দর্শনের অধিকারী ছিলেন
- 📌 রাজা নবকৃষ্ণের বাড়িতে বাজানোর সময় ওস্তাদ আমীর খাঁর সুরে ৩০-৪০ ফুট দূরত্বে ঝড়, বৃষ্টি ও জলবই শুরু হয়
- 📌 চার বছর বয়সে রাধিকামোহন মৈত্র সরোদ বাজাতে শুরু করেন, যা দেখে ওস্তাদ আমীর খাঁ তাকে নিজের শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন
- 📌 ১০ থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত রাধিকামোহন মৈত্র ওস্তাদ আমীর খাঁর কাছে রাগ-রাগিণী, ধ্রুপদ, খেয়াল ও ঠুমরি শিখেন
- 📌 ওস্তাদ আমীর খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রের বাবা ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্রকে বলেছিলেন, ‘ওকে আমায় দিতে হবে’
📰 বিস্তারিত
সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকারে জানা যায়, ওস্তাদ মোহাম্মদ আমীর খাঁ ছিলেন একজন সিদ্ধশিল্পী। তিনি বলতেন, তিনি বালকৃষ্ণের সঙ্গে থাকেন। রাজা নবকৃষ্ণের বাড়িতে বাজানোর সময়, ওস্তাদ আমীর খাঁর সুরে আশপাশের লোকদের ৩০-৪০ ফুট দূরত্বে বসতে বলা হয়েছিল। সুর তোলার সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গায় ঝড়, বৃষ্টি ও জলবই শুরু হয়। জলের টেউয়ের ভেতর একটা ছেলে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করছিলেন, যার মাথায় ময়ূরের পালক ছিল। ওস্তাদ আমীর খাঁর সুর বন্ধ হলে সেই ছেলে সরে গেল এবং জলটল আর দেখা যায়নি।
সোমজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, ওস্তাদ আমীর খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রের বাবা ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্রকে বলেছিলেন, ‘আমি কৃষ্ণঠাকুরের কাছে থাকতে চাই। একটা ঘর করে দিতে পারবেন?’ ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্র একটু প্রমাদ গুনলেও অবশেষে ওস্তাদ আমীর খাঁর কথা মেনে নেন। চার বছর বয়সে রাধিকামোহন মৈত্রের সরোদ শিক্ষা শুরু হয়। সোমজিৎ দাশগুপ্তের কথায়, ওস্তাদ আমীর খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রকে কোলে তুলে নিয়ে বলেছিলেন, ‘একে আমায় দিতে হবে’। ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্রের প্রমাদের পরও অবশেষে ওস্তাদ আমীর খাঁর কথা মেনে নেওয়া হয়।
১০ বছর বয়সে রাধিকামোহন মৈত্রের শিক্ষা আরো গভীর হয়। ওস্তাদ আমীর খাঁ তাকে বলেন, ‘এখন থেকে তোমার শিক্ষা একটু অন্য রকম হবে’। সোমজিৎ দাশগুপ্তের কথায়, ১০ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত রাধিকামোহন মৈত্র ওস্তাদ আমীর খাঁর কাছে রাগ-রাগিণী, গত্-বন্দিশ, কম্পোজিশন, রচনা, যন্ত্রসংগীত, ধ্রুপদ, খেয়াল ও ঠুমরি শিখেন। এভাবেই রাধিকামোহন মৈত্রের শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীতের ভিত্তি রচিত হয়।
"আমি কৃষ্ণঠাকুরের কাছে থাকতে চাই। একটা ঘর করে দিতে পারবেন?" — ওস্তাদ মোহাম্মদ আমীর খাঁ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর তালন্দ জমিদারবাড়ি, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোমজিৎ দাশগুপ্ত, রাধিকামোহন মৈত্র, ওস্তাদ মোহাম্মদ আমীর খাঁ, ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০-৪০ ফুট (দূরত্ব), ৪ বছর (বয়স), ১০-১৭ বছর (শিক্ষা সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!