📌 বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মুখস্থ অভিনয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখা অভিনেত্রী শবনম জানিয়েছেন, প্রম্পটের মাধ্যমে অভিনয় তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। লাহোর থেকে ঢাকায় ফিরে ‘সন্ধি’ চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে তিনি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন যা তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী শবনম তার অভিনয় জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেছেন। বিশেষ করে গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ‘সন্ধি’ চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে তিনি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা তার অভিনয় পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লাহোর থেকে ঢাকায় ফিরে ‘সন্ধি’ চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে শবনম মুখস্থ অভিনয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করেন
- 📌 প্রথম দিনের শুটিংয়ে প্রম্পটের অভ্যাস না থাকায় তিনি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান
- 📌 রাজ্জাক সাহেবসহ অন্যান্য অভিনেতারা স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন
- 📌 ‘সন্ধি’ (১৯৮৭), ‘জুলি’ (১৯৮৮), ‘যোগাযোগ’ (১৯৮৮), ‘সহধর্মিণী’ ও ‘শর্ত’ (১৯৮৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শবনম
- 📌 পরবর্তীতে ‘আম্মাজান’, ‘প্রেম শক্তি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে মুখস্থ অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের লাহোরে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন অভিনেত্রী শবনম। ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ থেকে তার কাছে গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ‘সন্ধি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। নিজের ভাষায় কাজ করার আনন্দের কথা উল্লেখ করে শবনম জানান, তিনি প্রথমে রাজি হলেও পরে লন্ডনে ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে প্রস্তাবটি বিবেচনা করেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ার তাকে বলেন, টানা এক মাস শুটিং করতে হবে, যা তাকে চিন্তায় ফেলে দেয়।
শবনম বলেন, "গাজী ভাই আমাকে বললেন, এটা আপনাকে করতেই হবে। যেভাবে পারেন ম্যানেজ করেন।" পরে তিনি সময় সংস্থান করে ঢাকায় আসেন এবং শুটিংয়ে অংশ নেন। প্রথম দিনের শুটিংয়ে তিনি যখন প্রম্পটের মুখোমুখি হন, তখন তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "প্রম্পট করার অভ্যাস আমার নেই। আমি প্রম্পট করার পর আমার হিরোর প্রম্পট হচ্ছে, এরপর আবার আমার। এতে করে আসলে আমার ইমোশন থাকছে না।"
এরপর রাজ্জাক সাহেবসহ অন্যান্য অভিনেতারা মিলে স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন। শবনম বলেন, "রাজ্জাক সাহেব বললেন, আমি মুখস্থ করব। জাফর বলল, আমিও মুখস্থ করব। ম্যাডাম ওখানে মুখস্থ করে কাজ করেন, প্রম্পট করে আসলে আবেগটা পাওয়া যায় না।" পরে সবাই মিলে মুখস্থ করে কাজটি সম্পন্ন করেন।
এরপর শবনম ‘সন্ধি’ (১৯৮৭), ‘জুলি’ (১৯৮৮), ‘যোগাযোগ’ (১৯৮৮), ‘সহধর্মিণী’ ও ‘শর্ত’ (১৯৮৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি বলেন, "আমার কাছে মনে হয়েছে, মুখস্থ থাকলে যে দৃশ্যে যে আবেগ দরকার, তা ঠিকঠাক দিতে পারব। কিন্তু প্রম্পটে এই আবেগ আসে বলে মনে হয় না।" পরবর্তীতে তিনি ‘আম্মাজান’, ‘প্রেম শক্তি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে মুখস্থ অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
"বাংলা ছবি পেয়েছি বলেই যে সেটা করব, তা কিন্তু না। সেদিনের শুটিং ক্যানসেল হলো। তারপর রাজ্জাক সাহেব জাফরসহ সবাই মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিল, স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে করা হবে। রাজ্জাক সাহেব বললেন, আমি মুখস্থ করব। জাফর বলল, আমিও মুখস্থ করব। এটা আমাদের ভাষা, আমরা স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে করব না কেন। ম্যাডাম ওখানে মুখস্থ করে কাজ করেন, প্রম্পট করে আসলে আবেগটা পাওয়া যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, লাহোর, লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শবনম, রাজ্জাক সাহেব, গাজী মাজহারুল আনোয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র: ‘সন্ধি’ (১৯৮৭), ‘জুলি’ (১৯৮৮), ‘যোগাযোগ’ (১৯৮৮), ‘সহধর্মিণী’ ও ‘শর্ত’ (১৯৮৯)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!