📌 পাটনার হোটেল কর্মী থেকে হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠির জীবনপথে একটি অপূর্ণ স্বপ্ন — ট্রাক্টর কেনার ব্যর্থতা — সফলতার গতি দিয়েছিল। বাবা ট্রাক্টর কিনতে পারেননি, কিন্তু সেটিই তাকে অভিনয় পেশায় নিয়ে গেল। ৫০ বছর বয়সে তিনি ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’ থেকে ‘মির্জাপুর’ পর্যন্ত সিনেমায় আলাদা চরিত্রে অভিনয় করছেন
পাটনার একটি হোটেলের রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার পরও পঙ্কজ ত্রিপাঠি মঞ্চে অভিনয়ের প্রতি তার অটুট আকর্ষণ হারাতে পারেননি। বাবা ট্রাক্টর কিনতে পারেননি, কিন্তু সেটিই তার জীবনকে অভিনয় পেশায় নিয়ে গেল। ৫ সেপ্টেম্বর পঙ্কজ ত্রিপাঠির জন্মদিন। ৫০ বছর বয়সে তিনি হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে উঠেছেন। ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’, ‘নিউটন’, ‘মাসান’, ‘মিমি’, ‘স্ত্রী’ ও ‘মির্জাপুর’ — এই সিনেমাগুলিতে তার অভিনয় দর্শকদের মনে অম্লান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাটনার হোটেল কর্মী থেকে হিন্দি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠির জীবনপথে একটি অপূর্ণ স্বপ্ন — ট্রাক্টর কেনার ব্যর্থতা — সফলতার গতি দিয়েছিল।
- 📌 ৫০ বছর বয়সে তিনি ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’, ‘মির্জাপুর’ ও ‘নিউটন’সহ বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
- 📌 বাবা ট্রাক্টর কিনতে পারেননি, কিন্তু সেটিই তাকে অভিনয় পেশায় নিয়ে গেল।
- 📌 পাটনায় পড়াশোনার সময় থিয়েটারে আগ্রহ দেখিয়ে স্নাতক পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
- 📌 হোটেল ব্যবস্থাপনা কোর্স শেষে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে চাকরি নেন, কিন্তু অভিনয়েই মন পড়ত।
📰 বিস্তারিত
পঙ্কজ ত্রিপাঠির জীবনের একটা মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল একটি অপূর্ণ স্বপ্ন। কৃষক পরিবারের সন্তান পঙ্কজ তখন ভেবেছিলেন, বাবা একদিন বাড়িতে একটি ট্রাক্টর কিনে আনবেন। তিনি পড়াশোনা শেষ করে সেটি দিয়ে খেতখামারের কাজ করবেন। কিন্তু পরিবারটির আর্থিক অবস্থা সেটিকে সম্ভব করতে পারেনি। পঙ্কজের মন খারাপ হলেও বাবা তাকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে পাটনায় পাঠান। কিন্তু পাটনায় এসে তার জীবনের হিসাব বদলে যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি ও থিয়েটারে আগ্রহ দেখিয়ে তিনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেন।
পাটনায় পড়াশোনার সময় থিয়েটারের মহড়া আর মঞ্চে অভিনয়ের টানে পঙ্কজ স্নাতক পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেন। কিন্তু শুধু থিয়েটার করে জীবন চালানো সম্ভব ছিল না। তাই তিনি হোটেল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি কোর্স করেন। প্রশিক্ষণ শেষে পাটনার একটি হোটেলে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে চাকরি নেন। কিন্তু অভিনয়েই তার মন পড়ত। চাকরির সময়সূচিও ঠিক করতেন থিয়েটারের মহড়ার সঙ্গে মিলিয়ে। কখনো দিনের বেলা হোটেলের রান্নাঘরে কাজ করে সন্ধ্যার পর চলে যেতেন নাটকের দলে। আবার দিনে মহড়া থাকলে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রান্নাঘর পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতেন।
চাকরির চেয়ে অভিনয়েই বেশি মন পড়ত। হোটেলের কর্মকর্তারা তাকে বকা দিতেন, কাজে মন নেই বলে। কিন্তু পঙ্কজের মন পড়ে থাকত মঞ্চেই। দুই বছর টানাপোড়েনের পর তিনি বুঝতে পারেন, অভিনয়কেই পেশা করতে চান। সেই লক্ষ্যে তিনি আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন এবং তিন বছর সময় নিয়ে স্নাতক শেষ করেন। কিন্তু অভিনয় শেখার পথ খুলতেই আবার শিক্ষাজীবনে ফেরেন পঙ্কজ।
"কোনো না-পাওয়া মানুষকে তার আসল গন্তব্যের দিকে ঠেলে দেয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাটনা (বিহার), মুম্বাই (মহারাষ্ট্র), মির্জাপুর (উত্তর প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পঙ্কজ ত্রিপাঠি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর বয়সে হিন্দি সিনেমায় জনপ্রিয়তা অর্জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!