📌 বলিউডে অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত অনলাইন প্রচারণা বা 'পেইড ট্রোলিং' শিল্পীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ট্রোল বাহিনী ও সংগঠিত গুজব ছড়িয়ে তারকাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কোটি টাকার ব্যবসা এই অদৃশ্য যুদ্ধের পেছনে রয়েছে
বলিউডের প্রতিযোগিতা আরো গভীরে ঢুকেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এখন মুঠোফোনের ছোট্ট পর্দায় অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত অনলাইন প্রচারণা বা 'পেইড ট্রোলিং' শিল্পীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও সংগঠিত ট্রোল বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই অদৃশ্য যুদ্ধের নানা অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বলিউডে অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত অনলাইন প্রচারণা বা 'পেইড ট্রোলিং' শিল্পীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছে।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও সংগঠিত ট্রোল বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
- 📌 অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানের সাথে সম্পর্কিত একটি ঘটনায় এক তরুণীকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তার সত্যি জানানোর আগেই বিপুল মানুষের কাছে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
- 📌 অভিনেতা ও নির্মাতা অংশুমান ঝা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে 'পেইড মাস রিপোর্টিং' চালানো হয়েছিল।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পীদের অ্যাকাউন্ট সীমিত হয়ে গেলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, পেশাগত ক্ষতির কারণও হতে পারে।
- 📌 ছোট পরিসরের প্রচারণায় কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ রুপি পর্যন্ত খরচ হতে পারে, কিন্তু বড় সিনেমা বা তারকাদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় ব্যয় কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 বিজ্ঞাপনও এর শিকার হতে পারে। কৃতি শ্যাননের একটি বিজ্ঞাপন ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণার মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে হয়।
📰 বিস্তারিত
বলিউডের লড়াই একসময় সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত প্রচারণা বা 'পেইড ট্রোলিং' শিল্পীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছে। এই প্রচারণায় ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ ও সংগঠিত ট্রোল বাহিনী ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট (ওআরএম) শিল্পীদের জনসংযোগ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের আড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
একটি ঘটনায় দেখা গেছে, কোনো জনপ্রিয় অভিনেতা বিদেশে ছুটি কাটানোর একটি ছবি দিলে, অন্য কোনো তরুণীর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। এরপর কেউ দুটি ছবির পেছনে মিল খুঁজে বের করে। শুরু হয় জল্পনা। রেডিট, এক্স বা ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে নানা দাবি। পরে সক্রিয় হয়ে ওঠে সংগঠিত অনলাইন নেটওয়ার্ক। শত শত অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের পোস্ট করা হয়। এর ফলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যেন বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেটি সত্যিই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মতামত, নাকি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা জনমত?
অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানের সাথে সম্পর্কিত একটি ঘটনায় এক তরুণীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই তরুণী নিজেই জানান, তিনি কার্তিক আরিয়ানকে চেনেন না। কিন্তু ততক্ষণে বিপুল মানুষের কাছে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রোলিংয়ের নতুন অস্ত্র হলো 'মাস রিপোর্টিং'। এটি শুধু কটূক্তি বা নেতিবাচক মন্তব্য নয়, অভিযোগ রয়েছে আরও সংগঠিত পদ্ধতির। অভিনেতা ও নির্মাতা অংশুমান ঝা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে 'পেইড মাস রিপোর্টিং' চালানো হয়েছিল। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট থেকে একই সময়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রোফাইল বা পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। এর উদ্দেশ্য হতে পারে, সেই অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম সীমিত করা বা প্ল্যাটফর্মের নজরে এনে সেটি বন্ধ করানোর চেষ্টা করা।
"এখন অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট শিল্পীদের জনসংযোগ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই কাজের আড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বলিউড (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কার্তিক আরিয়ান, অংশুমান ঝা, কৃতি শ্যানন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: কোটি টাকা (ব্যয়), শত শত অ্যাকাউন্ট, কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ রুপি (ছোট পরিসরের প্রচারণা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!