📌 ফিরোজা বেগমের শেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩০ সালের ফরিদপুরের রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হিসেবে তিনি কীভাবে নিজে নিজে গান শিখেছিলেন এবং নজরুলের সাথে কীভাবে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল, তা তিনি কবির বকুলকে বলেছিলেন
বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের (১৯৩০-২০১৪) শেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে তিনি নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ২১ মে নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কবির বকুলের সাথে তার এই স্মৃতিচারণা। ফিরোজা বেগমের কথায়, তিনি ব্রিটিশ ভারতের প্রথম সরকারি আইনজীবী খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইলের পরিবারের মেয়ে ছিলেন। ফরিদপুরে বেড়ে ওঠা তিনি কলকাতায় গিয়ে গানের সাথে পরিচিত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফিরোজা বেগম ১৯৩০ সালের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেন।
- 📌 তার বাবা খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম সরকারি আইনজীবী।
- 📌 কলকাতায় গিয়ে তিনি সুনীল বোসের মাধ্যমে অল ইন্ডিয়া রেডিও ও এইচএমভির সাথে পরিচিত হন।
- 📌 ১৯৪০-এর দশকে তিনি এইচএমভিতে গান শুনানোর জন্য নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসেন।
- 📌 নজরুলের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি বলেছিলেন, ‘কারও কাছ থেকে নয়, বাসায় থাকা কালো রেকর্ডগুলো শুনে শুনে গান শিখেছি’।
- 📌 নজরুল তাকে বলেছিলেন, ‘এত মিষ্টি কণ্ঠে মাত্র একটা গান শুনে কি ছাড়া যায়? আরেকটা শুনতে পারি না?’
📰 বিস্তারিত
ফিরোজা বেগমের স্মৃতিচারণায় দেখা যায়, তিনি কলকাতায় গিয়ে তার মামা ও ভাইদের মাধ্যমে গানের সাথে পরিচিত হন। তার ছোট মামা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ করছিলেন এবং গান-বাজনা পছন্দ করতেন। তার এক কাজিন ইমদাদুল হক তখন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতেন, আর তার ছোট ভাই এম এ হক কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পড়তেন। পরবর্তীতে এম এ হক পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। এই পরিবারের মাধ্যমে ফিরোজা বেগম অল ইন্ডিয়া বেতারের সুনীল বোসের সাথে পরিচিত হন। সুনীল বোস তাকে বলেছিলেন, ‘ওকে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে নিয়ে এসো, ওর অডিশন নেব’।
১৯৪০-এর দশকে ফিরোজা বেগম এইচএমভিতে গান শুনানোর জন্য যান। সেখানে তিনি প্রথমবারের মতো কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে আসেন। নজরুল তখন এইচএমভির প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন। ফিরোজা বেগমের কথায়, নজরুল ঘিয়া রঙের পাজামা-পাঞ্জাবি পরেছিলেন এবং সোনালি ফ্রেমের চশমা পরে ছিলেন। ফিরোজা বেগম গান শুনানোর সময় তিনি নজরুলের কাছে বিরক্ত হয়ে গান ধরেছিলেন। নজরুল তার গানের প্রশংসা করলেও ফিরোজা বেগমকে আরেকটা গান শুনানোর জন্য বললেন।
ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমি কিন্তু তখনো জানি না—ইনিই কাজী নজরুল ইসলাম। আমি মনে মনে ভীষণ বিরক্ত। একটা রুমে গাদাগাদি করে এত মানুষ! তার ওপর হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্র।’ নজরুল তার প্রশংসা করলেও ফিরোজা বেগমকে আরেকটা গান শুনানোর জন্য বললেন। ফিরোজা বেগমের কথায়, নজরুল তার প্রতিভার প্রশংসা করলেও তিনি তার বিরক্তির কথা প্রকাশ করেছিলেন।
"আমি মনে মনে ভীষণ বিরক্ত। একটা রুমে গাদাগাদি করে এত মানুষ! তার ওপর হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্র।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ফরিদপুর, ব্রিটিশ ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিরোজা বেগম, কাজী নজরুল ইসলাম, সুনীল বোস, খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ মে (নজরুলের জন্মজয়ন্তী), ২৮ জুলাই (ফিরোজা বেগমের জন্ম), ৯ সেপ্টেম্বর (ফিরোজা বেগমের মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!