📌 বাংলাদেশের জেন-জিরা (জেনারেল সেকেন্ডারি/জেনারেল ডিগ্রি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতার চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং উচ্চমানের শিক্ষার আশায় তারা দেশ ছাড়ছেন। ২০২৩ সালে বিদেশে পড়াশোনা করছিল ৫২ হাজার শিক্ষার্থী, যা ২০১৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ
বাংলাদেশের জেন-জিরা (জেনারেল সেকেন্ডারি/জেনারেল ডিগ্রি) শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিযোগিতার চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং বিদেশে উচ্চমানের শিক্ষার আশায় তারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ইউনেস্কোর তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার, যা ২০১৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫২ হাজার** বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছিলেন, যা ২০১৩ সালের তুলনায় **দ্বিগুণ** বেড়েছে
- 📌 **গভীর প্রতিযোগিতার** কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কঠিন — **৩৬ জনের** মধ্যে একজন আসন পায়
- 📌 **চাকরির অনিশ্চয়তা** ও **৩৬ শতাংশ** বেকারত্বের কারণে তরুণরা বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন
- 📌 **৬৬ কোটি ডলার** বিনিয়োগ করে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা করছেন, যা তাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে
- 📌 **আইইএলটিএস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্পনসর কাগজ** সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকা সত্ত্বেও বিদেশই প্রথম পছন্দ
📰 বিস্তারিত
উচ্চমাধ্যমিক শেষে শিক্ষার্থীদের সামনে তিনটি প্রধান পথ থাকে: বিসিএস পরীক্ষা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা বা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ। কিন্তু বিসিএস ও বেসরকারি চাকরির প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। এই কারণে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমার বিষয়ে বাংলাদেশে শুধু তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ আছে। ফলে বিদেশে উচ্চমানের শিক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের ইউরোপ বা আমেরিকার দিকে তাকাতে হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা বাবদ **৬৬ কোটি ডলারের বেশি** অর্থ পাঠিয়েছেন। এই বড় বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে চাকরি ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা **২৬ লাখ ২০ হাজার** পর্যন্ত বেড়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে **৩৬ শতাংশ** বেকার। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপদ পথ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কানাডার সেন্ট জন শহরে অবস্থানরত তাসমিম বিনতে করিম অমি উচ্চমাধ্যমিক শেষে দেশ ছেড়ে বিদেশে পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি বলেন, “ভর্তির প্রতিযোগিতার ভয় ছিল ব্যাপক। সেই কারণে পড়াশোনার জন্য বিদেশ বেছে নিলাম। তবে বিদেশে অবস্থানরত থাকা চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু এখানকার শিক্ষা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
"উন্নত মানের শিক্ষাই প্রথম কারণ। আমার বিষয়ে বাংলাদেশে শুধু তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ আছে। ফলে ইউরোপ, আমেরিকার মতো দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, কানাডা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসমিম বিনতে করিম অমি, জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ হাজার (বিদেশে শিক্ষার্থী), ৩৬ জন (প্রতিযোগী), ৬৬ কোটি ডলার (বিনিয়োগ), ৩৬ শতাংশ (বেকারত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!