📌 বাংলাদেশের ১৩ বছরের তাহমিদ হাসান আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে সোনা জিতলেও দেশে ৬০.৮% প্রাথমিক শিক্ষার্থী মৌলিক গাণিতিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছেনা। শিক্ষা জরিপের তথ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা সংলাপে আলোচিত প্রধান সমস্যা সম্পর্কে প্রতিবেদন
বাংলাদেশের ১৩ বছরের তাহমিদ হাসান আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইএমএসও) সোনা জিতলেও দেশে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মৌলিক গাণিতিক দক্ষতা নিয়ে চিন্তাজনক অবস্থা অব্যাহত। ৬০.৮% শিক্ষার্থী মৌলিক অঙ্ক কষতে পারছেনা — এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের বহু সূচক গুচ্ছ জরিপ (এমআইসিএস) ২০২৫।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ জন শিক্ষার্থীর দল থেকে তাহমিদ হাসান সোনা জিতলেন, আর ১৫ জন পদক পেলেন — ১ সোনা, ৭ রুপা ও ৭ ব্রোঞ্জ।
- 📌 ৬০.৮% প্রাথমিক শিক্ষার্থী মৌলিক গাণিতিক দক্ষতা দেখাতে পারছেনা, ৪৯.৮% সহজ গল্প বুঝতে পারেনা — এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য।
- 📌 ২০২৬-২০৩১ মেয়াদী পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি, মেয়াদ শুরু হলেও কাগজ চূড়ান্ত হয়নি।
- 📌 দুর্গম এলাকায় দুপুরের খাবার সরবরাহের জটিলতা, শিক্ষকদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের অভাব, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্কুল নির্মাণে সমস্যা — এসব আলোচিত।
- 📌 শিক্ষায় এআই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি, যদিও চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে এখন শিক্ষাব্যবস্থা এআই দিয়ে পরিবর্তিত হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের (আইএমএসও) ২৩তম আসরে বাংলাদেশের ১৬ জন ১৩ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। দলের সদস্য, অভিভাবক ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে গিয়ে প্রতিবেদনকারীরা দেখলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির তাহমিদ হাসান বিজ্ঞানের স্বর্ণপদক জিতলেন। এটিই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৩ বছরের শিশুদের এই আসরে প্রথম সোনা। দলের ১৫ জন শিক্ষার্থী পদক নিয়ে ফিরেছে — ১ সোনা, ৭ রুপা ও ৭ ব্রোঞ্জ। গণিতে অংশ নেওয়া আটজন শিক্ষার্থীর সবাই পদক পেয়েছে। দলের সবচেয়ে ছোট দুজন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়েন।
তাহমিদের সাফল্য সত্ত্বেও দেশে প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা চিন্তাজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৬০.৮% মৌলিক গাণিতিক দক্ষতা দেখাতে পারছেনা। আর ৪৯.৮% বয়স-উপযোগী সহজ গল্প বুঝতে পারছেনা। অর্থাৎ, সেই বয়সের শিশু যাকে পশ্চিম জাভায় সোনা জিততে দেখা গিয়েছিল, তার মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৬ জন দেশে সাধারণ অঙ্ক কষতে পারেনা।
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন। সংলাপে জানানো হয়েছিল, প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে ২৪টি প্রতিশ্রুতির একটিও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি, যদিও মেয়াদ শুরু হয়ে গেছে।
সংলাপে আলোচিত প্রধান সমস্যা ছিল দুর্গম এলাকায় দুপুরের খাবারের সরবরাহের জটিলতা, প্রকল্পকাঠামোর জটিলতা, বিদ্যালয় নির্মাণে রাজনৈতিক প্রভাব, বরাদ্দের টাকা খরচ না হওয়া, শিক্ষকদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের অভাব। কিন্তু শিশুরা পড়তে শিখছে কি না, অঙ্ক কষতে পারছে কি না — এই মূল প্রশ্ন আলোচনার কেন্দ্রে এল না।
"আমাদের শিক্ষানীতি বহু বছর ধরে মাপা হয় উপকরণ দিয়ে: কটা স্কুলভবন উঠল, কত কোটি বই ছাপা হলো, কটা ট্যাব বিতরণ হলো। কিন্তু কাউকে কখনো জবাব দিতে হয় না, এ বছর তৃতীয় শ্রেণির কত শতাংশ শিশু পড়তে শিখল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম জাভা (ইন্দোনেশিয়া), ঢাকা (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাহমিদ হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০.৮% (অগণিত দক্ষতা), ১৬ জন (শিক্ষার্থী), ১৫ জন (পদকধারী), ১ সোনা, ৭ রুপা, ৭ ব্রোঞ্জ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!