📌 এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করলে শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সরকার এ নিয়ম পরিবর্তন করে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই পরিবর্তনের জন্য আশাবাদী
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করলে শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সরকার এ নিয়ম পরিবর্তন করে তিন মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার সমস্যা কমাতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে।
- 📌 ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
- 📌 পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।
- 📌 সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তিন মাসের মধ্যে ফেল করা বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
- 📌 বরিশালের সিনথিয়া আক্তার মনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে গণিতে ফেল করলেও বাকি বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
- 📌 পার্বত্য চট্টগ্রামের এক ছাত্রী পদার্থবিজ্ঞানে ফেল করায় বন্ধুদের চেয়ে এক বছর পিছিয়ে পড়তে হবে।
- 📌 ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
📰 বিস্তারিত
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশালের সিনথিয়া আক্তার মনি জানান, পরীক্ষা চলাকালে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে গণিতে ফেল করলেও বাকি বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “অসুস্থতার কারণে গণিতে প্রস্তুতি নিতে পারিনি। ফলে ফেল করলাম। কিন্তু বাকি বিষয়ে ভালো করেছি।” এই কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের এক ছাত্রী জানান, পদার্থবিজ্ঞানে ফেলের কারণে বন্ধুদের চেয়ে এক বছর পিছিয়ে পড়তে হবে। তিনি দাবি করেন, তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে। বিদ্যমান নিয়মে, ফেল করলে পরের বছর আবার পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু এই নিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা চাইছেন। সরকারও এই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, “এই ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের উপকার হবে। শিক্ষা বোর্ডগুলো এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।” শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। এছাড়াও, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার জটিলতা কমবে।
"এ বছরই এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনই বলতে পারছি না। তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে।" — অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বরিশাল, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিনথিয়া আক্তার মনি, মাহদী আমিন, অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ ৯০ হাজার (ফেল শিক্ষার্থী), ৬৪.৫ (পাসের হার), ৬২.২৫ (গড় পাসের হার), ৩ হাজার ৭৯ (জিপিএ-৫ পেয়েছেন), ৪ হাজার ৫৮৫ (ফেল থেকে উত্তীর্ণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!