📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আবাসন ও ভর্তিপ্রক্রিয়ার জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিসা জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীরা আসছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। একাডেমিক সেকশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তার আগের বছরগুলোতে সংখ্যাটি ছিল উল্লেখযোগ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রাবির স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি
- 📌 ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন — ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে
- 📌 ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন — যার মধ্যে একজন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে
- 📌 আবাসন সুবিধা ও ভর্তিপ্রক্রিয়ার জটিলতা বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা
- 📌 রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা আসছেন না বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সেকশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা হয়েছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে তিনজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে সংখ্যাটি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। তবে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কিছুটা উন্নতি হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসনের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। নেপালের এক শিক্ষার্থী জানান, এম্বাসির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হলে অনেকে আগ্রহী হতেন। ভিসা জটিলতার কারণেও অনেকেই আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র যাচাইয়ে জটিলতা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাগজপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিলে বিষয়টি সহজ হয়। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি পরীক্ষার প্রয়োজন নেই, তবে বিভাগীয় যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ভর্তি করা হয়।
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আগে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের কারণে অনেকেই ভর্তি হতে আগ্রহী হননি।’ তিনি আরও জানান, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবারও আকৃষ্ট করার জন্য একাডেমিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
‘আমাদের আবাসনের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ফলে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ভর্তি হওয়ার পরও অনেকে চলে যান।’ — নেপালের এক বিদেশি শিক্ষার্থী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক খুরশিদ আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৮ জন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!