📌 রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দাখিল পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে উত্তর দেওয়ার অভিযোগে চার শিক্ষককে মামলায় আসামি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী মুবিনের ওএমআর শিট পরিবর্তন করে ফেল করা হয়, যা শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে প্রকাশ পায়। আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে
রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকায় দাখিল পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে উত্তর সরবরাহ এবং পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট পরিবর্তনের অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. মোশারফ হুসেন গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গঙ্গাচড়া মডেল থানায় এই মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী কেন্দ্রসচিব মো. আব্দুল বাকী ওরফে লিটন, সাউদপাড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার মো. রোকনুজ্জামান, গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মো. অলিউল্লাহ এবং ধনতোলা বাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহিম খলিলকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
- 📌 পরীক্ষার্থী মুবিনের ওএমআর শিট পরিবর্তন করে ফেল করা হয়, যা শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে প্রকাশ পায়। তার প্রকৃত ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ২৫০০৫৮৬০২০, কিন্তু জমা দেওয়া ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ২৫০১৫৭৫১৫৩।
- 📌 পরীক্ষা চলাকালে টাকার বিনিময়ে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মুবিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিটন তার সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
- 📌 মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পরীক্ষা শেষে মুবিনের ওএমআর শিট পরিবর্তন করে অন্য একটি শিট শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়।
- 📌 ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুবিন দাবি করেন, তার ওএমআর শিট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ফল পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দায়ের করেন।
📰 বিস্তারিত
চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় কোলকোন্দ তাকিয়া শরীফ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. হাবিবুল বাশার মুবিন গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দেন। গত ২০ মে বিকেলে পরীক্ষা চলাকালে প্রথম আসামি আব্দুল বাকী ওরফে লিটন পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করেন। মুবিন টাকা দিয়ে উত্তর নিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে লিটনের বিতর্ক হয়। পরীক্ষা শেষে মুবিনের ওএমআর শিট পরিবর্তন করে অন্য একটি ওএমআর শিট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মুবিন দেখতে পান, অন্য বিষয়গুলোতে এ প্লাস পেলেও জীববিজ্ঞান বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। পরে ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও তার ফল পরিবর্তন হয়নি। ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার জীববিজ্ঞান বিষয়ের লিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী অংশের ওএমআর শিট পর্যালোচনা করা হয়। মুবিন দাবি করেন, দেখানো ওএমআর শিটটি তার নয়।
তদন্ত কমিটির তদন্তে পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে থাকা ওএমআর শিটের স্বাক্ষরের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া ওএমআর শিটের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া যায়। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পাওয়া যায়। মুবিনের হাজিরা শিটে থাকা বহুনির্বাচনী ওএমআর শিটের প্রকৃত সিরিয়াল নম্বর ২৫০০৫৮৬০২০ হলেও শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ২৫০১৫৭৫১৫৩। তদন্ত কমিটির কাছে তিন আসামি লিখিত বক্তব্য দিলেও প্রথম আসামি আব্দুল বাকী ওরফে লিটন কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
"জীববিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে আমাদের সবাইকে থাকতে বলেন লিটন হুজুর। এরপর আমাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিটন হুজুর ক্ষুব্ধ হন। ফল প্রকাশের পর দেখি, সব বিষয়ে এ প্লাস পেলেও শুধু জীববিজ্ঞানে ফেল করেছি। পরে বোর্ডে চ্যালেঞ্জ করেও ফল পরিবর্তন হয়নি।" — মুবিন
মামলার ২ নম্বর আসামি মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘হঠাৎ বোর্ড থেকে ফোন করে জানানো হয়, ওএমআর পরিবর্তন হয়েছে। আমি বলেছি, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এরপর আমাদের বোর্ডে ডাকা হয়। আমরা গিয়ে বিষয়টি দেখি। আমি হল সুপার ছিলাম বলে আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।’ অন্য তিন আসামির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গঙ্গাচড়া, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হাবিবুল বাশার মুবিন, মো. মোশারফ হুসেন, মো. আব্দুল বাকী ওরফে লিটন, মো. রোকনুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০০৫৮৬০২০ (প্রকৃত ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর), ২৫০১৫৭৫১৫৩ (জমা দেওয়া ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!