📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্লেজিং সংঘর্ষে ইতিহাস বিভাগের গোলরক্ষক মোহাম্মদ জিম গুরুতর আহত হন। ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্লেজিং সংঘর্ষে ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মাথা ফেটে যান। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এই ঘটনা ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইতিহাস বিভাগের গোলরক্ষক মোহাম্মদ জিম (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন
- 📌 টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পেলে স্লেজিং সংঘর্ষে দুই পক্ষের শিক্ষার্থী আহত হন
- 📌 ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, গ্যালারি থেকে ইটের আঘাতের পর সংঘর্ষ শুরু হয়
- 📌 শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক রোকসানা টুকটুকি ঘটনায় তদন্তের দাবি জানান
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মাহবুবর রহমান ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ১৬-এর খেলায় ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ম্যাচটি বিকেল ৩টায় শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা থাকে। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পেলে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসান আলম জানান, পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়রা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে উদ্যাপন করছিলেন, তখন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক তাদের একজনকে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ইটের আঘাতে ইতিহাস বিভাগের গোলরক্ষক মোহাম্মদ জিমের মাথা ফেটে যায়।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, টাইব্রেকারে ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গেলে গ্যালারি থেকে স্লেজিং চলছিল। ইতিহাস বিভাগের জয়ের পর গ্যালারি থেকে তাদের গোলরক্ষককে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। গোলরক্ষক বিষয়টি দেখালে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। ঘটনায় তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন। হাসান জামান আরও বলেন, গ্যালারি ভেঙে তাদের দর্শকদের দিকেও অনেকে তেড়ে আসেন। মাঠে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা টুকটুকি জানান, খেলাটি শুরু থেকে সুন্দরভাবেই চলছিল। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জেতার পর একপর্যায়ে মারামারি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রোকসানা টুকটুকি বলেন, ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার বিষয়টি তিনি দেখেননি, তবে পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। তিনি আরও জানান, খেলোয়াড় প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি নিজে গেটে তালিকা ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তালিকার বাইরে কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
"পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়েরা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে উদ্যাপন করছিলাম। তখন তাঁদের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের একজনের ইটের আঘাতে আমাদের গোলরক্ষক জিম ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ জিম (ইতিহাস বিভাগের গোলরক্ষক), রাফসান আলম, হাসান জামান, রোকসানা টুকটুকি, মাহবুবর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ, রাউন্ড অব ১৬, ৩ টা বাজে, ১-১ গোল, ১ জন গুরুতর আহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!