📌 চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়ে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখান মাওলানা মুনির আহমেদ। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে কাজের সুবিধা ও জীবনযাপনের জন্য ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়ে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সততা, মানুষের উপকার ও সুদ-ঘুষ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিচ্ছেন মাওলানা মুনির আহমেদ। মধ্যপ্রাচ্যে কাজের সুবিধা ও জীবনযাপনের জন্য ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়ে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখান মাওলানা মুনির আহমেদ (৪৪)।
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যে কাজের সুবিধা ও জীবনযাপনের জন্য ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
- 📌 শিক্ষার্থীদের আরবিতে কথা বলার জন্য কমিউনিকেটিভ পদ্ধতি ব্যবহার করেন মুনির আহমেদ।
- 📌 পবিত্র কোরআন-হাদিস, আরবি সাহিত্য, আকাইদ ও ফিকহ পড়ান তিনি।
- 📌 মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশা বেছে নিয়েছেন নিজের ইচ্ছায়।
- 📌 মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়ে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখান মাওলানা মুনির আহমেদ। শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মাদ্রাসায় তিনি আরবির প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মুনির আহমেদ (৪৪) বলেন, “জীবিকার খোঁজে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যান, কিন্তু ভাষা না জানায় অনেকে বিপাকে পড়েন। তাই কমিউনিকেটিভ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের আরবিতে কথা বলা শেখান। ভাষাটা রপ্ত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ, ব্যবসা বা পড়াশোনায় সুবিধা হয়।”
তিনি আরবি ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পবিত্র কোরআন-হাদিস, আরবি সাহিত্য, আকাইদ ও ফিকহ পড়ান। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে সততা, মানুষের উপকার করা এবং সুদ-ঘুষ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেন তিনি। বলেন, “শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে এসব মূল্যবোধ মেনে চললে শিক্ষক হিসেবে গর্ব হয়।”
মুনির আহমেদের দিন শুরু হয় ফজরের নামাজ পড়ে ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে মাদ্রাসায় আসেন তিনি। দিনে চার-পাঁচটি ক্লাস নেন। নবম শ্রেণি থেকে ফাজিল পর্যন্ত পড়ান পবিত্র কোরআন-হাদিস, আরবি সাহিত্য, আকাইদ ও ফিকহ। বিকেল চারটায় মাদ্রাসা থেকে ফেরেন এবং মাগরিবের পর পরদিনের ক্লাসের প্রস্তুতি নেন।
মুনির আহমেদের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গহিরায়। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। একমাত্র তিনিই পড়েছেন মাদ্রাসায়। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় পরিবারের সবাই চাইতেন আমি মাদ্রাসায় পড়ি। সেই ইচ্ছা থেকেই পড়েছি। আর বড় হয়ে নিজের ইচ্ছায় মাদ্রাসায় শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।’
২০০৪ সালে চট্টগ্রাম শহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন মুনির আহমেদ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, “ছাত্রজীবনে ফাজিল-কামিলের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতি ছিল না। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আলাদা করে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করতে হয়েছে।”
২০১৬ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রভাষক (আরবি) নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। কক্সবাজার ও বোয়ালখালীর দুটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পর ২০১৯ সালে যোগ দেন গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়। মাসের আয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘কষ্ট হয় না, তা বলব না। তারপরও কোনোভাবে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।’
মুনির আহমেদ মাদ্রাসাশিক্ষাকে যুগোপযোগী করার পক্ষে। তিনি বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। সন্তানেরা যেন ভালো মানুষ হয়ে উঠুক, সেটাই আমার লক্ষ্য।”
"শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে সততা, মানুষের উপকার ও সুদ-ঘুষ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিলে শিক্ষক হিসেবে গর্ব হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা, হলদিয়া ইউনিয়ন, গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মাওলানা মুনির আহমেদ (৪৪)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ কিলোমিটার (শহর থেকে দূরত্ব), ৪৪ বছর (বয়স), ১৫ অক্টোবর (সাক্ষাৎকারের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!