📌 কুড়িগ্রামের বিশাল সরকার কৌশিক অভাব-অনটনের মধ্যে লড়াই করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে হোটেলে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি
কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ী এলাকার বিশাল সরকার কৌশিক অভাব-অনটনের মধ্যে লড়াই করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার এই শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে দিনমজুরি ও হোটেলকর্মী হিসেবে কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জিপিএ-৫ পেলেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বিশাল সরকার কৌশিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়।
- 📌 হোটেলে কাজ করেও পড়াশোনা চালিয়ে যান বিশাল, পরিবারের আর্থিক সংকট মেটাতে দিনমজুরি ও হোটেলকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
- 📌 অন্যের জমিতে ভাঙা চালাঘরে বসবাস করছেন বিশালের পরিবার। বাবা-মা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন তিনি।
- 📌 ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন বিশালের মা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সংসারের অভাব মেটাতে।
- 📌 স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার কুড়িগ্রামের এই শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যান প্রবাসী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায়।
📰 বিস্তারিত
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারের পাশে অন্যের জমিতে তৈরি তিনটি জীর্ণ চালাঘরে বিশাল সরকার কৌশিকের পরিবারের বসবাস। এই ঘরগুলোর টিনের চাল পুরোনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফুটো। সামান্য বৃষ্টি পড়লেই পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তি হয়। বিশালের মা কণা রানী একটি কিন্ডারগার্টেনে আয়ার কাজ করেন এবং সামান্য সম্মানী পান। অসুস্থতা নিয়ে বাবা সুকুমার সরকার সপ্তাহে দুই দিন গ্রামের হাটে চা বিক্রি করেন। দুজনের সীমিত আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন এবং ঋণের চাপও রয়েছে।
বিশালের শিক্ষাজীবনের শুরু ছিল কাঁঠালবাড়ী বিদ্যাকানন থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। সেখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে। স্কুলে ভর্তির সময় এক বন্ধুর দেওয়া পুরোনো প্যান্ট ও জুতা ব্যবহার করে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ হয়নি। পরে কয়েকজন শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে তাকে পড়িয়েছেন। এইচএসসি পর্যায়েও এক প্রবাসী ও শিক্ষকদের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি।
বিশালের মা কণা রানী বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনের সামান্য আয়ে সংসারের খরচ চালানোই কঠিন। তার ওপর রয়েছে ঋণের বোঝা। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে ভালো ফল করায় তারা আনন্দিত।
"নিজের সংগ্রামের কথা জানিয়ে বিশাল বলেন, স্কুলে ভর্তির সময় এক বন্ধুর দেওয়া পুরোনো প্যান্ট ও জুতা ব্যবহার করেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাঁঠালবাড়ী, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশাল সরকার কৌশিক, কণা রানী, সুকুমার সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫.০, ৮০ হাজার টাকা ঋণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!