📌 কুড়িগ্রামের চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মো. ছবেদ আলী পরিচালিত ‘খাদ্য ছায়া স্কুল ক্যানটিন’ থেকে ২০ টাকায় পেটভর খাবার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দামের অর্ধেকে বাজারের তুলনায় খাবার পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা খুবই খুশি
কুড়িগ্রামের একটি স্কুল ক্যানটিনে শিক্ষার্থীরা মাত্র ২০ টাকায় পেটভর খাবার পাচ্ছেন। এই ক্যানটিনের নাম ‘খাদ্য ছায়া স্কুল ক্যানটিন’। ক্যানটিনটি পরিচালনা করছেন মো. ছবেদ আলী (৫৫)। তিনি বলছেন, বাজারে যে খাবার কিনতে লাগে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, এখানে তা পাওয়ার দাম মাত্র ২০ টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে প্রায় এক বছর আগে থেকে। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ শিক্ষার্থী এখানে খাবার খায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ টাকায় পেটভর খাবার: কুড়িগ্রামের চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাত্র ২০ টাকায় খিচুড়ি, পরোটা, ডাল-রুটি পাচ্ছেন। বাজারের তুলনায় দামের অর্ধেকে খাবার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- 📌 ক্যানটিন পরিচালক ছবেদ আলীর সংগ্রাম: ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পরেও শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামে খাবার ব্যবস্থা করছেন।
- 📌 শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের খাবারখানা: টিফিনের সময় বাসায় হেঁটে গিয়ে খাওয়া সম্ভব নয়। ভ্যানে যেতে-আসতে ২০ টাকা লাগে, যা এখানে খাবারের দামের সমান।
- 📌 ক্যানটিনের লাভ কম: ছয়জন কর্মচারীর বেতন, রান্নার উপকরণ ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর ২০ টাকায় খাবার বিক্রি করেও লাভ কম। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামে খাবার পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখছেন ছবেদ আলী।
- 📌 শিক্ষকদের প্রশংসা: চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেছেন, ক্যানটিনটি চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অল্প দামে খাবার খেতে পারছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ক্যানটিন তদারক করে।
📰 বিস্তারিত
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খাদ্য ছায়া স্কুল ক্যানটিন’ একটি স্বপ্নের স্থান হয়ে উঠেছে। এই ক্যানটিনে শিক্ষার্থীরা মাত্র ২০ টাকায় পেটভর খাবার পাচ্ছেন। খিচুড়ি, পরোটা, ডাল-রুটি সহ বেশিরভাগ খাবারের দাম শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ টাকা। সপ্তাহের কোনো কোনো দিন একই দামে মেলে মাংস-খিচুড়িও।
মো. ছবেদ আলী (৫৫) এই ক্যানটিন পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আগে বিভিন্ন বাড়ির অনুষ্ঠানে রান্না করতাম। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে ক্যানটিন করার সুযোগ দিয়েছে। পরিবারে আমি আর স্ত্রী, দুইটা মানুষ। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের কম টাকায় খাওয়াতে পারি। অভাবী এলাকা, সবাই গরিব পরিবার থেকে আসে। কেউ টাকা নাই কইলে আর জোর করি না।’
ছবেদ আলীর নিজের জীবনও সংগ্রামের। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এখন শৌলমারী বাজারের পাশে অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। নির্দিষ্ট আয়ের কোনো উৎস ছিল না। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে ক্যানটিন চালানোর সুযোগ পাওয়ার পর সেটিই হয়ে উঠেছে তাঁর কর্মসংস্থানের প্রধান অবলম্বন। কয়েক বছর আগে এক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পান ছবেদ আলী। এখনো ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না।
২০২৫ সালে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্যানটিনটি চালু করা হয়। ক্যানটিনের স্বত্বাধিকারী হলেও পরিচালনা করেন ছবেদ আলী। তিনি বলেন, ‘স্কুলের সময়ের বাইরে অন্য ক্রেতারা আসেন। তখন যে লাভ হয়, তা দিয়েই সংসার চলছে। বিদ্যালয় চলাকালে ক্যানটিনের প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাইরের ক্রেতাদের কাছে খাবার বিক্রি করা হয় না। ক্লাস শেষ হলে বাইরের ক্রেতাদের জন্য ক্যানটিন খুলে দেওয়া হয়।’
"বাজারের খাবারের দামের অর্ধেকে এখানে খাওয়া যায়। এটা আমাদের জন্য খুবই উপকারী।"
— দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন
নবম শ্রেণির ছাত্রী রেশমা আক্তারের বাসা স্কুল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। তিনি বলেন, ‘টিফিনের সময় বাসায় হেঁটে গিয়ে খেয়ে আবার স্কুলে ফিরে আসা সম্ভব নয়। ভ্যানে যেতে-আসতে ২০ টাকা ভাড়া লাগে। সব সময় ভ্যান পাওয়াও যায় না। ছবেদ আলী কাকার ক্যানটিনে ওই টাকায় দুপুরে পেট ভরে খাওয়া যায়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, রৌমারী উপজেলা, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ছবেদ আলী (৫৫), দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন, নবম শ্রেণির ছাত্রী রেশমা আক্তার, প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ টাকা (খাবারের দাম), ৪০-৫০ টাকা (বাজারের খাবারের দাম), ৫৫ বছর (ছবেদ আলীর বয়স), ১০০-১২০ শিক্ষার্থী (প্রতিদিন খাবার খাওয়ানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!