📌 রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কলি রানী পা দিয়ে লেখাপড়া করে এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তিনি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বাঁধা অতিক্রম করে নিজের স্বপ্ন পূরণের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তাপাড়ের গদাই গ্রামের কলি রানী জন্ম থেকেই দুই হাত অচল থাকলেও পা দিয়ে লেখাপড়া করে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এই অর্জনে তিনি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, বাবাহীন সংসারের আর্থিক সংকট এবং পরিবারের জমি হারানোর মতো প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলি রানী পা দিয়ে লেখাপড়া করে এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
- 📌 পরীক্ষা দিতে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ৩০২ নম্বর কক্ষে বসেন এবং ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পান।
- 📌 কলি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বাঁধা অতিক্রম করে সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন।
- 📌 তার স্বপ্ন হলো বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রশাসনে যোগদান এবং মানুষের সেবা করা।
- 📌 পরিবার ও স্থানীয়রা তাকে 'হার না মানা তরুণী' হিসেবে পরিচিত।
📰 বিস্তারিত
কলি রানীর জীবন সংগ্রামের গল্প। শৈশবেই হারিয়ে ফেলেন বাবাকে। ছয় ভাই-বোনের সংসারে মা রূপালী রানী একা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কলিকে পা দিয়ে সব কাজ শেখানো হয়। তিনি পা দিয়ে লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, গোসল, চুল আঁচড়ানো এবং মোবাইল ও কম্পিউটার চালান। শুধু নিজের পোশাক নিজে পরতে পারেন না, সেই কাজ মা করে দেন।
কলির বিশ্বাস, মানুষের সীমাবদ্ধতা শরীরে নয়, মনোবলে। তিনি বলেন, 'আমার দুই পা আমার হাত, আমার শক্তি। এই পায়ের ওপর ভর করেই আমি সব বাধা অতিক্রম করতে চাই।' তিনি স্বপ্ন দেখেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামবেন না।
কাউনিয়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, কলি পরীক্ষা দিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী ৩০২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও বলেন, কলি শুধু লেখাপড়াতেই নয়, সংগীতচর্চা, চিত্রাঙ্কন ও কম্পিউটার শিক্ষায়ও দক্ষ। তার জীবন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
"আমি স্বপ্ন দেখি, আর সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামব না। আমার দুই পা-ই আমার হাত, আমার শক্তি।"
কলির বড় ভাই মন্টু রায় বলেন, ছোটবেলায় কলি পা দিয়ে ধীরে ধীরে লেখা শেখা শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই দ্রুত লিখতে পারেন। পরিবারের সামান্য কৃষিজমি তাদের একমাত্র সম্বল। তিস্তার ভাঙনে সেই জমিরও বড় অংশ হারিয়ে গেছে। তবুও কলির স্বপ্ন পূরণের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা, তিস্তাপাড়ের গদাই গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কলি রানী, রূপালী রানী, রফিকুল ইসলাম, মন্টু রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ ৩.৫০, ৩০২ নম্বর কক্ষ, ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!