📌 জামালপুর বন্ধুসভায় বিভূতিভূষণের বিখ্যাত গল্প 'পাগলী' নিয়ে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রে তারানাথ তান্ত্রিকের রহস্যময় অভিজ্ঞতার গল্পের গভীরতা আলোচিত হয়। ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই আসরে গল্পের অদ্ভুত ঘটনাবলী ও তান্ত্রিক শক্তির রহস্য তুলে ধরা হয়
জামালপুর বন্ধুসভায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প ‘পাগলী’ নিয়ে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রে তারানাথ তান্ত্রিকের রহস্যময় অভিজ্ঞতার গল্পের গভীরতা আলোচিত হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে গল্পের অদ্ভুত ঘটনাবলী ও তান্ত্রিক শক্তির রহস্যের কথা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিভূতিভূষণের ‘পাগলী’ গল্পের পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয় জামালপুর বন্ধুসভায় ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে
- 📌 গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তারানাথ তান্ত্রিকের শিষ্যত্ব গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা হয়
- 📌 পাগলী তান্ত্রিক সাধিকার মায়াজালে তারানাথকে পরীক্ষা করে তার তন্ত্রসাধনার পথ বন্ধ করে দেন
- 📌 শ্মশানে পাগলীর বদলে সুন্দরী ষোড়শী মেয়ের উপস্থিতি ও নরকঙ্কালের ভয়াবহ দৃশ্য বর্ণিত হয়
- 📌 পাগলী তারানাথকে সতর্ক করেন যে, তার মধ্যে অর্থের লোভের কারণে তন্ত্রসাধনা করা সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পাগলী’ গল্পের পাঠচক্রে তারানাথ তান্ত্রিকের অভিজ্ঞতার গল্পের গভীরতা উন্মোচিত হয়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তারানাথ তান্ত্রিক তন্ত্রসাধনা শেখার জন্য খুব আগ্রহী ছিলেন। সাধু-সন্ন্যাসীদের খুঁজতে খুঁজতে তিনি বীরভূমের একটি গ্রামের শ্মশানে থাকা রহস্যময় নারীর কথা শুনেন, যাকে সবাই ‘মাতু পাগলী’ বলে ডাকত।
তারানাথ প্রথমবার পাগলীর কাছে গেলে সে তাকে তাড়িয়ে দেয় এবং বলে, ‘এখান থেকে চলে যেতে। তন্ত্রসাধনা হবে না এবং বিপদ হতে পারে’। কিন্তু তারানাথ হাল ছাড়েন না। বারবার তার কাছে যান এবং শিষ্য হতে চান। একদিন পাগলী তাকে কাছে বসতে দেয় এবং তারানাথ পরীক্ষা করার জন্য খাবার চাইলে পাগলী শ্মশানের পোড়া কয়লা হাতে দিয়ে বলে, ‘এগুলোই খাবার’। তারানাথ কয়লা মুখে দিয়ে ফেলে দেয়। পাগলী তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে এবং বলে, ‘শুধু খাবারের লোভে তন্ত্রসাধনা করতে এসেছ?’
পাগলী তারানাথকে তন্ত্রের নানা রহস্যের কথা বলে এবং সতর্ক করে যে, ডাকিনী, শাঁখিনী, হাকিনী ইত্যাদি অদৃশ্য শক্তি নিয়ে খেলতে গেলে বিপদ হতে পারে। তারানাথের কৌতূহল এত বেশি যে সে যেতে থাকে। একদিন সন্ধ্যায় তারানাথ পাগলীর বটগাছের কাছে গিয়ে দেখেন, সেখানে পাগলীর বদলে একজন সুন্দরী ষোড়শী মেয়ে বসে আছে। তার কথা ও আচরণ দেখে তারানাথ বুঝতে পারেন যে, এই মেয়ের মধ্যে পাগলীর উপস্থিতি আছে।
পাগলী তারানাথকে সতর্ক করে যে, তার তন্ত্রসাধনা করা উচিত নয়। কিন্তু তাকে পরীক্ষা করার জন্য সে শবসাধনা করার ব্যবস্থা করে। নদীর ধারে একটি অল্পবয়সী মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। তারানাথ শবের ওপর বসে মন্ত্র জপ শুরু করলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে থাকেন—চারদিকে অদ্ভুত নারী, পাখি, অসংখ্য নরকঙ্কাল এবং নানা ভয়াবহ বিভীষিকা। শেষে তার সামনে এক সুন্দরী মেয়ে এসে নিজেকে ষোড়শী মহাবিদ্যা বলে পরিচয় দেয়। পরে আরও ভয়ংকর এক নারীমূর্তি দেখা যায়, যাকে পাগলী ‘মহাডামরী মহাভৈরবী’ বলে ব্যাখ্যা করেন।
"সে আসলে সারা রাত শ্মশানে ছিল না! তোমার কাছে মনে হয়েছিল যেন পুরো রাত কেটে গেছে, কিন্তু বাস্তবে তখনো সবে সন্ধ্যা। তন্ত্রের মায়া তোমাকে পরীক্ষা করেছিল।"
তারানাথ শেষ পর্যন্ত ভয় পেয়ে শবসাধনার আসন ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সকালে ফিরে আসার সময় পাগলী তাকে দেখে হাসতে থাকে এবং বলে, ‘আমি আসলে সারা রাত শ্মশানে ছিলাম না! তোমার বিশ্বাসে আমি তন্ত্রের মায়া তৈরি করেছিলাম। নরকঙ্কাল, ষোড়শী, মহাডামরী—সবকিছুই তোমার সাধনার পরীক্ষা ছিল। তন্ত্রসাধনার পথ তোমার জন্য নয়। তোমার মধ্যে অর্থের লোভ আছে, সেই শক্তি বেশি দিন থাকবে না।’ তারানাথ সেখান থেকে চলে আসেন এবং আর কোনো দিন পাগলীর দেখা পাননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুর বন্ধুসভা, জামালপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তারানাথ তান্ত্রিক, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পাগলী (মাতু পাগলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ সেপ্টেম্বর (জন্ম), ১ নভেম্বর (মৃত্যু), ১১ সেপ্টেম্বর (পাঠচক্র অনুষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!