📌 বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ জহির রায়হানের জীবন ও কর্মের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে ‘অনুসন্ধান ও ভালোবাসা’ শীর্ষক গ্রন্থে। তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মানুষের মুক্তির সংগ্রাম
বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জহির রায়হানের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে ‘অনুসন্ধান ও ভালোবাসা’ শিরোনামের গ্রন্থটি। মতিউর রহমান সম্পাদিত এই বইটি প্রকাশ করে প্রথমা প্রকাশন। ভূমিকা পর্বে সংকলিত সম্পাদকের প্রবন্ধে জহির রায়হানের বহুমুখী সত্তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে কথাশিল্পী, চলচ্চিত্রকার ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘অনুসন্ধান ও ভালোবাসা’ শিরোনামের গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় প্রথমা প্রকাশন থেকে ২০২১ সালে, মতিউর রহমানের সম্পাদনায়
- 📌 জহির রায়হান ছিলেন বাংলার বিরল এক সাহিত্যিক, যিনি সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন
- 📌 তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হলো ‘ওদের জানিয়ে দাও’, ‘একুশের গল্প’, ‘আরেক ফাল্গুন’ ও ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্র
- 📌 তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্ত কমিটির প্রতিষ্ঠাতা
- 📌 জহির রায়হানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি মিরপুরে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হন
📰 বিস্তারিত
জহির রায়হানের জীবন ও কর্মের বিশ্লেষণে এই গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মানুষের মুক্তির সংগ্রামের চিত্র। ‘ওদের জানিয়ে দাও’ কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। সাহিত্যজীবনের শুরুতেই তিনি গণমানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণও ছিল একই আদর্শের ধারক। ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে চিরন্তন করে তুলেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো যেমন ‘সোনার কাজল’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘সংগম’ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক।
রাজনৈতিকভাবে তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্ট। তবে তিনি কখনোই সংকীর্ণ দলীয় আদর্শের অনুসারী ছিলেন না। তাঁর লেখনী ও চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির কথাই বারবার উচ্চারণ করেছেন।
"জহির রায়হান ছিলেন অমর একুশের মানসসন্তান। তাঁর সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের চেতনা চিরন্তন হয়ে উঠেছে।"
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন এবং ‘Bangladesh Liberation Council of Intelligentsia’-এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি গঠন করেন ‘বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্ত কমিটি’, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করা। তাঁর এই কর্মকাণ্ড তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ ও কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহির রায়হান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (মুক্তিযুদ্ধের), ৩ ফেব্রুয়ারি (স্মরণ দিবস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!