📌 ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাস হার (৫২.১২%) রেকর্ড করা হয়েছে। ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে সর্বাধিক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার মানহানি, শিক্ষক অভাব ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার (৫২.১২%) রেকর্ড করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর গড় পাসের হার এবং জিপিএ-৫-এর হার উভয়ই কমেছে। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পাস করেছেন। এর ফলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার (৫২.১২%) — গত ২০০৪ সালের পর সর্বনিম্ন (৪৭.৭৪%)
- 📌 ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে সর্বাধিক অকৃতকার্য: ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন (ইংরেজি: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮, আইসিটি: ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩)
- 📌 ৯টি বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ড ছাড়া বাকি সব বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭০% এর নিচে
- 📌 মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪২.১৭% — ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০.৭৭%
- 📌 শিক্ষক অভাব, ইংরেজিভীতির সমস্যা ও আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষক না থাকায় ফলাফল খারাপ
📰 বিস্তারিত
শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশে নেমে এসেছে। এবারের পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অভিন্ন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, নানা সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শিক্ষা লাভ করতে পারছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন প্রকৃত শিক্ষা, যা আমাদের নেই। ইংরেজি ও আইসিটিতে খারাপ করার অন্যতম কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব।’
ইংরেজি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ড ছাড়া বাকি আটটি বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের নিচে। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬২ শতাংশ, কিন্তু রাজশাহী বোর্ডে মাত্র ৫৬.১ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৪.৮৩ শতাংশ, যশোরে ৫৪.৯৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৬৫.৭৭ শতাংশ, বরিশালে ৫৪.০৮ শতাংশ, সিলেটে ৬৫.৮৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৬.৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৯.১১ শতাংশ। আইসিটিতে গড় পাসের হার ৭১.৫৩ শতাংশ, যেখানে ঢাকা বোর্ডে ৭৬.১৯ শতাংশ পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে।
মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪২.১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৩৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন পাস করেছেন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫০.৭৭ শতাংশ। হিসাববিজ্ঞানে চারটি বোর্ডে পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে দক্ষ শিক্ষকের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজিভীতিও আছে। আইসিটি পড়ানোর জন্য যে মানের শিক্ষক প্রয়োজন, সেই মানের শিক্ষক নেই।’
"আমার দৃষ্টিতে এবারের ফলাফলেও প্রকৃত মূল্যায়ন হয়নি। কারণ, প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন প্রকৃত শিক্ষা, যা আমাদের নেই। ইংরেজি ও আইসিটিতে খারাপ করার অন্যতম কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব। এদিকে নজর দিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী, ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পাস, ৫২.১২% পাসের হার, ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন অকৃতকার্য (ইংরেজি+আইসিটি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!