📌 মুন্সিগঞ্জের রাঢ়ীখালের শিক্ষক মো. নূর-উল-হোসেন ‘হোসেন স্যার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর শিক্ষণ পদ্ধতি ও মানবিক চিন্তাধারা ছাত্রদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। হুমায়ুন আজাদ তাঁকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ বলে ডাকতেন। স্যারের লেখালেখি ও গ্রামীণ সমাজে অবদান নিয়ে পাঠকের লেখা প্রকাশিত হলো প্রথম আলোতে
মুন্সিগঞ্জের রাঢ়ীখালের একজন শিক্ষকের জীবন ও শিক্ষণ পদ্ধতি ছাত্রদের মনে অম্লান হয়ে আছে। মো. নূর-উল-হোসেন, যিনি ‘হোসেন স্যার’ নামে পরিচিত, তাঁর শিক্ষণ পদ্ধতি ও মানবিক চিন্তাধারা ছাত্রদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর শিক্ষকতা ও লেখালেখির গল্প প্রথম আলোতে পাঠকের লেখা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হোসেন স্যার** (মো. নূর-উল-হোসেন) ছিলেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ রাঢ়ীখালের বাসিন্দা এবং রাঢ়ীখালের ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক।
- 📌 স্যার **১৯৯৩ সালে** বিদায় নিলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সংবর্ধনা দেনি, তাই ছাত্ররা নিজে সংবর্ধনা আয়োজন করে হুমায়ুন আজাদকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান।
- 📌 হুমায়ুন আজাদ স্যারের বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, ‘তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়’ — এই কথাটি স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার প্রতীক।
- 📌 হোসেন স্যার **২০টি বই** লিখেছিলেন, যার মধ্যে উপন্যাস, কবিতা, ইতিহাস ও প্রবন্ধ ছিল। তিনি নিজের অর্থে বই প্রকাশ করতেন এবং স্কুল-প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন।
- 📌 স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতিতে ছিল এক অনন্য বৈশিষ্ট্য: তিনি **প্রাইভেট পড়াতেন না**, বরং ক্লাসে শিক্ষা দিতেন এবং ছাত্রদের নিজে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন।
- 📌 স্যার **শান্তিনিকেতন থেকে** উচ্চশিক্ষা লাভ করেছিলেন, যা সেই সময়ে রাঢ়ীখালের অঞ্চলে বিরল ছিল।
- 📌 স্যারের বাড়ি হুমায়ুন আজাদের বাড়ির পুকুরের অপর প্রান্তে অবস্থিত ছিল।
- 📌 স্যারের লেখা বইয়ের মূল্য **১০০ টাকার বেশি** ছিল না, কিন্তু তিনি নিজের অর্থে প্রকাশ করতেন এবং ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করতেন।
📰 বিস্তারিত
মো. নূর-উল-হোসেন ‘হোসেন স্যার’ নামে পরিচিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জের রাঢ়ীখালের একজন শিক্ষক। তাঁর শিক্ষণ পদ্ধতি ও মানবিক চিন্তাধারা ছাত্রদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। স্যার **রাঢ়ীখালের জগদীশচন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশনে** শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। সেখানে তাঁর একজন উল্লেখযোগ্য ছাত্র ছিলেন ড. হুমায়ুন আজাদ। স্যার সাধারণত উচ্চ শ্রেণিতে পড়াতেন, কিন্তু একবার **ক্লাস সেভেনে** শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে তিনি ক্লাস নিতে এলেন। স্যারের প্রথম শিক্ষক হিসেবে তাঁকে পেলেন লেখক মো. নূর-উল-হোসেন। স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতিতে ছিল এক অনন্য বৈশিষ্ট্য: তিনি **ইংরেজি ও বাংলা মিশিয়ে কথা বলার** বিরোধিতা করতেন এবং **৭ লিখতে** সঠিক পদ্ধতি শেখাতেন।
হোসেন স্যার ছিলেন একজন **লেখালেখি প্রেমিক**। তিনি **২০টি বই** লিখেছিলেন, যার মধ্যে উপন্যাস, কবিতা, ইতিহাস ও প্রবন্ধ ছিল। স্যার নিজের অর্থে বই প্রকাশ করতেন এবং স্কুল-প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন। তাঁর বইয়ের মূল্য **১০০ টাকার বেশি** ছিল না। স্যারের লেখায় ছিল হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্ক, প্রেম, বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রগতি ও সমাজ বিনির্মাণের কথা। স্যারের শিক্ষকতা ও লেখালেখির কারণে হুমায়ুন আজাদ তাঁকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ বলে ডাকতেন।
১৯৯৩ সালে হোসেন স্যার **বিদায় নিলেও** স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সংবর্ধনা দেনি। এরপর ছাত্ররা নিজে সংবর্ধনা আয়োজন করে হুমায়ুন আজাদকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান। হুমায়ুন আজাদ স্যারের বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, ‘তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়’ — এই কথাটি স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার প্রতীক। স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতি ও মানবিক চিন্তাধারা ছাত্রদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
হোসেন স্যার **শান্তিনিকেতন থেকে** উচ্চশিক্ষা লাভ করেছিলেন, যা সেই সময়ে রাঢ়ীখালের অঞ্চলে বিরল ছিল। স্যারের বাড়ি হুমায়ুন আজাদের বাড়ির পুকুরের অপর প্রান্তে অবস্থিত ছিল। স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতিতে ছিল এক অনন্য বৈশিষ্ট্য: তিনি **প্রাইভেট পড়াতেন না**, বরং ক্লাসে শিক্ষা দিতেন এবং ছাত্রদের নিজে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। স্যারের শিক্ষণ পদ্ধতি ও মানবিক চিন্তাধারা ছাত্রদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
"পদ্মাপারের মানুষেরাই একদিন রাজধানী ঢাকা দখল করবে!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দক্ষিণ রাঢ়ীখাল, ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চবিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নূর-উল-হোসেন (হোসেন স্যার), হুমায়ুন আজাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি বই, ১০০ টাকার বেশি নয়, ১৫ বছর, ৭ লিখতে সঠিক পদ্ধতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!