📌 বাংলাদেশে নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর দরপত্রে সিন্ডিকেটের কারসাজি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এনসিটিবির কর্মকর্তা ও প্রেস মালিকদের যোগসাজশে সরকারি অর্থের ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দরপত্রে প্রতিযোগিতা নেই, দর বেড়েছে ৪৩%। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে নথিপত্র উদ্ধার করেছে
বাংলাদেশের নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর দরপত্রে সিন্ডিকেটের কারসাজি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক আহ্বান করা ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে ৩০টিতে মাত্র একজন করে দরদাতা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এছাড়াও ১৩টি দরপত্রে দুটি এবং বাকি দুটিতে তিনটি করে প্রস্তাব পড়েছে। এতে সরকারি অর্থের অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯৫% দরপত্রে কারসাজি: এনসিটিবির কর্মকর্তা ও প্রেস মালিকদের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে ৩০টিতে একক দরদাতা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
- 📌 ৪৩% দর বেড়েছে: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফর্মাপ্রতি গড় মুদ্রণমূল্য ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩২ পয়সা।
- 📌 ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়: সরকারি অর্থের অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে নথিপত্র উদ্ধার করেছে।
- 📌 সিন্ডিকেটের নাম: মুদ্রণশিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসারুজ্জামান রুবেল, প্রেস মালিক দুলাল সরকার, এসএম মহসিন, মিন্টু মোল্লা, হুমায়ুন কবির, শেখ সিরাজ, পারভেজ ও সুহেলের নাম সিন্ডিকেটের তালিকায় রয়েছে।
- 📌 পদায়ন ও অর্থবিনিময়: প্রেস চক্রটি এনসিটিবির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়নে অর্থের বিনিময়ে ভূমিকা রাখছে।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক আহ্বান করা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণ ও সরবরাহের দরপত্রে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। এনসিটিবির কর্মকর্তা ও প্রেস মালিকদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত যোগসাজশে এই কারসাজি সম্পন্ন হয়েছে। দরপত্রের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে ৩০টিতে মাত্র একজন করে দরদাতা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এছাড়াও ১৩টি দরপত্রে দুটি এবং বাকি দুটি দরপত্রে তিনটি করে প্রস্তাব পড়েছে।
মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান যুগান্তরকে বলেছেন, এবার বইয়ের দরপত্রে কোনো প্রতিযোগিতা হয়নি। এনসিটিবি ও কিছু মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা করলে এনসিটিবি উলটো পথে হাঁটছে।
দরপত্রে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের ফর্মাপ্রতি গড় মুদ্রণমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ফর্মাপ্রতি গড় দর ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩২ পয়সা। গত বছরের তুলনায় দর বেড়েছে প্রায় ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়াও, দরপত্র প্রক্রিয়া চলাকালে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রাক্কলিত মূল্য পুনর্নির্ধারণের অভিযোগ উঠেছে।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রমা ও ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেসের মালিক এসএম মহসিন বলেছেন, এনসিটিবিতে সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। তিনি বলেন, তিনি খুব বেশি কাজ পাননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় ১২০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছেন। এছাড়াও, এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে।
"এনসিটিবি ও কিছু মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা করলে এনসিটিবি উলটো পথে হাঁটছে।"
— তোফায়েল খান যুগান্তরকে বলেছেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (এনসিটিবি, মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফায়েল খান, এসএম মহসিন, মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু, কাওসারুজ্জামান রুবেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৫%, ৩০০ কোটি টাকা, ৪৫টি দরপত্র, ৩০টি একক দরদাতা, ৪৩.৭% দর বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!