📌 জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৩১ কোটি পাঠ্যবই সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রাথমিক স্তরে ৯৮% বই ছাপা হয়েছে, মাধ্যমিকে ৭১% অগ্রগতি হলেও সময়মতো সরবরাহের আশা করা হচ্ছে
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩১ কোটি পাঠ্যবই সরবরাহের লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতি করছে। প্রাথমিক স্তরে ৯৮ শতাংশের বেশি বই ছাপা হয়েছে এবং সরবরাহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে ৭১ শতাংশের বেশি বই ছাপা হলেও সরবরাহে কিছু পিছিয়ে রয়েছে। এনসিটিবি আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বই সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রাথমিক স্তরে ৯৮.৩০ শতাংশ বই ছাপা, সরবরাহের কাজ ৯৭.৫৯ শতাংশ সম্পন্ন
- 📌 মাধ্যমিক স্তরে ৭১ শতাংশের বেশি বই ছাপা, সরবরাহের কাজ ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন
- 📌 আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হবে
- 📌 প্রাথমিক স্তরের বই ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার, মাধ্যমিক স্তরের বই ২২ কোটির বেশি
- 📌 বই ছাপা ও সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা
- 📌 প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই সরবরাহ শেষের নির্দেশ দিয়েছেন
- 📌 চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন দুটি বইয়ের ছাপা এখনো শুরু হয়নি
- 📌 এনসিটিবি লক্ষ্য: ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বই ছাপা শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো
📰 বিস্তারিত
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই সরবরাহের কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে বই ছাপার কাজ ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বই। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এবার শিক্ষাবর্ষের শুরুতে পাঠ্যবই সরবরাহে কোনো সংকট হবে না। এবার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময়ই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি ছাপা হয়েছে। এসব বইয়ের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৬৫ শতাংশের বেশি। ফলে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ শেষ করতে এখনো বড় একটি অংশ বাকি রয়েছে। প্রাথমিক স্তরে আবার দরপত্র আহ্বান করা একটি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে বইয়ের সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। তবে সামগ্রিক অগ্রগতিতে এর প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, এবার প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ পাওয়া মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৮২ শতাংশই মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার কাজও পেয়েছে। প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ শেষ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান এখন মাধ্যমিকের বই ছাপায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ছাড়া প্রাথমিকের পাঠ্যবই চার রঙে ছাপা হলেও মাধ্যমিকের বই এক রঙে ছাপা হয়। ফলে মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজও এখন দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব পাঠ্যবই সরবরাহ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া নতুন দুটি বইয়ের ছাপা এখনো শুরু হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হবে। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’। এনসিটিবি লক্ষ্য, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বই ছাপার কাজ শেষ করে সেগুলো মাঠপর্যায়ে পাঠানো। তবে কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। তাতে সামগ্রিক বই বিতরণে সমস্যা হবে না বলে মনে করেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।
"এবার শিক্ষাবর্ষের শুরুতে পাঠ্যবই সরবরাহে কোনো সংকট হবে না। এবার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময়ই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এনসিটিবি কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ কোটি পাঠ্যবই, ২২ কোটি মাধ্যমিক বই, ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার প্রাথমিক বই, ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা ব্যয়, ৯৮.৩০% প্রাথমিক বই ছাপা, ৭১% মাধ্যমিক বই ছাপা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!