📌 দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া (২৫) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি একটি স্থায়ী চাকরি পেতে চান, কারণ স্ত্রীর একমাত্র আয়ের ওপর তাদের পরিবার নির্ভরশীল। ৬ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেছেন বিশেষ বিবেচনায় টেলিফোন অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া (২৫) মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার অধিকার চায়, নয়তো করুণার। শৈশবে মাকে হারানোর পর কৈশোরে বাবা খোরশেদ মিয়া (রিকশা চালক)কে হারিয়ে অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠেন তিনি। সাত ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন মিজান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক (২০২৩) ও স্নাতকোত্তর (২০২৫) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের ঘাটুরা গৌতমপাড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্ত্রী হাবিবা বেগমের সাথে থাকেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান মিয়া (২৫)** চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু বর্তমানে স্ত্রীর একমাত্র আয়ের ওপর পরিবার নির্ভরশীল
- 📌 **৬ সেপ্টেম্বর** বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে টেলিফোন অপারেটর পদে বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগের আবেদন জানান
- 📌 **বাবা খোরশেদ মিয়া** (রিকশা চালক) মিজানের একাদশ শ্রেণিতে মৃত্যুবরণ করেন, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও বৃত্তি পান
- 📌 **স্ত্রী হাবিবা বেগম** বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে মাসে ৮ হাজার টাকা আয়ের ওপর সংসার চালান
- 📌 **চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল** সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেছেন, মিজানের নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ করবেন
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের আদিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মিজান মিয়া। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা থামাননি। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। বাবা খোরশেদ মিয়া একাদশ শ্রেণিতে মৃত্যুবরণ করলে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও একটি বেসরকারি শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০২৩ সালে স্নাতক ও ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
মিজান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে পুরোপুরি স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। স্ত্রী হাবিবা বেগম বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে মাসে ৮ হাজার টাকা আয়ের ওপর সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু তিনি অসুস্থ। বেশি দিন এই চাকরি করতে পারবেন না। তাই আমার একটি স্থায়ী চাকরি খুব প্রয়োজন। কোনো করুণা নয়; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির প্রার্থনা করছি।’
মিজান ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে টেলিফোন অপারেটর পদে বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগের আবেদন করেন। আবেদনে তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়।
"আমি বর্তমানে পুরোপুরি স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর আয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে। কিন্তু তিনি অসুস্থ। বেশি দিন এই চাকরি করতে পারবেন না। তাই আমার একটি চাকরি খুব প্রয়োজন। কোনো করুণা নয়; মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির প্রার্থনা করছি।"
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এসে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়ে আমরা অবশ্যই সুপারিশ করব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা, আদমপুর গ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজান মিয়া (২৫), হাবিবা বেগম, খোরশেদ মিয়া, আলাউদ্দিন মহসিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ, ৬ সেপ্টেম্বর, ৮ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!