📌 দিনাজপুরের টিকরামপুরের তিন ফুট উচ্চতার মেয়ে আলমিনা সার্কাসের প্রলোভন থেকে বাঁচিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হতে চায়। তার বাবা-মা অভাবের মাঝে তাকে সার্কাসে বিক্রি করতে রাজি হলেও শিক্ষকদের সাহায্যে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন
দিনাজপুরের টিকরামপুর গ্রামের একটি হতদরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আলমিনা হাসদা শারীরিক উচ্চতা মাত্র তিন ফুট হলেও তার স্বপ্নের উচ্চতা অপরিসীম। খর্বাকৃতির কারণে জীবনের শুরুতেই তাকে সামাজিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি একসময় সার্কাসের লোকজন তাকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি — বরং তার অদম্য ইচ্ছা ও শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি এখন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্নে লড়াই করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিনাজপুরের টিকরামপুরের তিন ফুট উচ্চতার মেয়ে আলমিনা চক্ষু বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্নে লড়াই করছেন
- 📌 সার্কাসের লোকজন তাকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু বাবা-মা রাজি হননি
- 📌 গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার শিক্ষকদের সাহায্যে আলমিনা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন
- 📌 বর্তমানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন আলমিনা, চক্ষু চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্যে
- 📌 শিক্ষকরা বলছেন, আলমিনা অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী ও মেধাবী শিক্ষার্থী
📰 বিস্তারিত
দিনাজপুরের টিকরামপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী আলমিনা হাসদা তার শারীরিক উচ্চতা মাত্র তিন ফুট হলেও তার স্বপ্নের পরিধি অসীম। গুড়িহারী শালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর খর্বাকৃতির কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছিল। সেই সময় সার্কাসের দল তার মা-বাবাকে মোটা টাকার বিনিময়ে আলমিনাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তবে অভাব-অনটনের মাঝেও মা-বাবা মেয়েকে সার্কাসে দিতে রাজি হননি।
আলমিনার এই অনিশ্চিত সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায় গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা। বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা সরাসরি তার বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে বোঝান এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালে আলমিনা আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন এবং নিজের লক্ষ্য হিসেবে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হওয়ার কথা বলেছেন।
আলমিনার এই অগ্রযাত্রায় তার বাবা লক্ষ্মী হাসদা বিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই স্কুল যদি না থাকত, তবে আজকে আমার বেটির লেখাপড়া হতো না। হয়তো তাকে সার্কাসেই যেতে হতো।’ শিক্ষকদের মতে, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আলমিনা অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার অদম্য ইচ্ছা ও পরিশ্রম ভবিষ্যতে তাকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দেবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
"আমি লেখাপড়া করে একজন আদর্শ চক্ষু চিকিৎসক হতে চাই। মানুষের চোখের নানা সমস্যার সমাধান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টিকরামপুর গ্রাম, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলমিনা হাসদা, লক্ষ্মী হাসদা, মোছা. নার্গিস খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ ফুট (উচ্চতা), অষ্টম শ্রেণি (বর্তমান শ্রেণি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!