📌 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা দাবি করছে, এই পদক্ষেপ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য অবমাননা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (বিএনপি-শাখা) আন্দোলন শুরু করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৮ সালের জিন্নাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জিন্নাহর 'কেবল উর্দু রাষ্ট্রভাষা' ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত করে।
- 📌 সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি অবমাননা: ছাত্রদল দাবি করে, ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের ঐতিহ্য অবমাননা করে এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করার চেষ্টা।
- 📌 ডাকসুর নেতৃত্বের অভিযোগ: তারা অভিযোগ করেছেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট ও অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংস্থাটিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- 📌 সরিয়ে ফেলার দাবি: ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং ডাকসুকে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস রক্ষার প্রতিশ্রুতি: তারা ঘোষণা করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও মুক্তিকামী চেতনা রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন।
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ছাত্রদল দাবি করে, এই প্রতিবাদই পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ছাত্রদল আরও অভিযোগ করেছেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে নির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাটিকে ব্যবহার করছে। তারা উল্লেখ করেছেন, মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার চেষ্টা এবং সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিকৃতির চেষ্টা।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্মারক ও মুক্তিকামী চেতনাকে বিকৃত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য কাজ করবো।’
"ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী জিন্নাহর ছবি সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জাহাঙ্গীর আলম (ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক), রাকিবুল ইসলাম রাকিব (ছাত্রদলের সভাপতি), নাছির উদ্দীন নাছির (ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর (প্রতিবাদ ঘোষণা), ২১ মার্চ ১৯৪৮ (জিন্নাহর বক্তব্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!