📌 নড়াইল থেকে লেখিকা শৈশবে এক বিদেশী হুজুরের চুমু এবং স্কুলের প্রেসিডেন্ট এরশাদের আদরসূচক চুমু থেকে শিখলেন ‘ব্যাড টাচ’ কী। বর্তমান সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে লেখিকাটি সচেতনতা জাগিয়ে তুলেছেন
নড়াইল শহরের এক মফস্বল স্কুলের ছাত্রী হিসেবে শৈশবে আমি অবাধে মাঠে খেলতাম। কিন্তু একদিনের ঘটনা আমাকে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিলো — ‘ব্যাড টাচ’ কী। সেই ঘটনাটি আমাকে বাড়ির মানুষের নজরে এনে দিলো, আর সেই থেকে আমার মাঠে খেলার স্বাধীনতা শেষ হয়ে গেলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নড়াইল প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রী হিসেবে** শৈশবে আমি মাঠে খেলার সময় এক বিদেশী হুজুরের চুমু পেলাম, যা আমাকে ‘ব্যাড টাচ’ বুঝতে সাহায্য করলো
- 📌 **হুজুর বলেছিলেন:** *"মা, তুমি খুব ভাগ্যবতী মেয়ে। তুমি যেখানে যাবে, ঘর আলো করে রাখবে"* — এই কথাগুলো আমাকে প্রথমবারের মতো ‘ব্যাড টাচ’ শব্দের অর্থ বুঝিয়ে দিলো
- 📌 **প্রেসিডেন্ট এরশাদও আমাকে চুমু দিয়েছিলেন**, কিন্তু সেই সময় আমি তা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ মনে করতাম
- 📌 **বর্তমান সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে** লেখিকাটি বলেছেন, বাবা-মা বা শিক্ষকদের অধিকার নেই শিশুদের সাথে এমন আচরণ করার
📰 বিস্তারিত
আমার শৈশব কেটেছে নড়াইল শহরের এক মফস্বল এলাকায়। ক্লাস টুতে পড়তাম নড়াইল প্রাইমারী স্কুলে। বিকেলের সময় আমি এবং আমার বন্ধুরা মাঠে খেলতাম। একদিন খেলা শেষে পানি খেতে গেলাম টিউবওয়েলের পাড়ে। সেখানে লম্বা জুব্বা পরা একজন বিদেশী হুজুর তাঁর সঙ্গীসাথীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি মূলত তাবলীগ করতে এসেছিলেন। আমি সালাম দিলে তিনি আমাকে কাছে ডাকলেন এবং আমার কপালে চুমু দিলেন।
তিনি বলেছিলেন, *"মা, তুমি খুব ভাগ্যবতী মেয়ে। তুমি যেখানে যাবে, ঘর আলো করে রাখবে।"* সেই সময় আমি আনন্দে বিমোহিত হয়ে বাসায় ফিরে মাকে ঘটনাটি বললাম। ঠিক সেই দিনই প্রথম জেনেছিলাম ‘ব্যাড টাচ’ আর ‘গুড টাচ’ কী। হয়তো সেই ভদ্রলোকের মনে কোনো খারাপ অভিসন্ধি ছিল না, কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে বাড়ির মানুষ আমাকে আর সেই মাঠে খেলতে যেতে দেয়নি।
আমার মনে একটা প্রশ্ন ছিল: কেন বাবা-মা আমাকে আর মাঠে যেতে দেয়নি? সেই সময় স্কুলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসেছিলেন। আমি তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করলাম। তিনি আমার কপালে চুমু দিলেন। সেদিন সেটা ছিল কেবলই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় শিশু থেকে বৃদ্ধ — কেউই নিরাপদ নয়।
লেখিকাটি বলেছেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেছেন, *"আমাদের সন্তানদের সুরক্ষায় এই সচেতনতাটুকুর এখন বড্ড প্রয়োজন।"* তিনি আরো বলেছেন যে, বাবা-মা বা শিক্ষকদের অধিকার নেই শিশুদের সাথে এমন কোনো শব্দ বা ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করার, কিংবা কোনো কন্যা শিশুকে এভাবে চুমু দেবার।
"আসসালামু আলাইকুম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নড়াইল, মফস্বল শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখিকা (শৈশবকালীন), হুজুর (বিদেশী), প্রেসিডেন্ট এরশাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ক্লাস টু (শিক্ষা স্তর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!