📌 প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের অসমাপ্ত ঘুম নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের ঘুম শিশুদের স্মৃতিশক্তি ও মেজাজ উন্নত করে। এশিয়ার কয়েকটি দেশে স্কুলে ঘুমের ব্যবস্থা চালু রয়েছে
ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে প্রতিদিন ভোরের আলোয় ক্ষুধার্ত শিশুরা দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের চোখে থাকে অসমাপ্ত ঘুমের ছাপ। একই দৃশ্য শরীয়তপুরের শহরতলিতেও দেখা যায়। বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে চার বছর বয়স থেকেই ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব শিশুর জন্য দৈনিক ক্লাসের সময় দুই ঘণ্টা নির্ধারিত। সকাল নয়টার মধ্যে স্কুলে আসতে হয় তাদের। সমাবেশ, ব্যায়াম, গল্প বলা, বর্ণ ও সংখ্যা চেনা, আঁকাআঁকি ও খেলাধুলা—এসবই তাদের শিখনচর্চার অংশ। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের সময়সূচিও প্রায় একই। দুপুর বারোটা থেকে শুরু হয় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস; চলে বেলা দুটো পর্যন্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে চার বছর বয়স থেকেই ভর্তির সুযোগ রয়েছে
- 📌 প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের জন্য দৈনিক ক্লাসের সময় দুই ঘণ্টা এবং সময়সূচি সকাল নয়টা থেকে বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত
- 📌 প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের ক্লাস শুরু হয় দুপুর বারোটা থেকে এবং চলে বেলা দুটো পর্যন্ত
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুদের দিনের ঘুম স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
- 📌 চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন বিরতিতে ন্যাপের ব্যবস্থা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণি চালু হয়েছে। চার বছর বয়স হলেই শিশুরা এসব বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের জন্য দৈনিক ক্লাসের সময় দুই ঘণ্টা নির্ধারিত। সকাল নয়টার মধ্যে স্কুলে আসতে হয় তাদের। সমাবেশ ও ব্যায়াম, গল্প বলা, বর্ণ ও সংখ্যা চেনা, আঁকাআঁকি ও খেলাধুলা—এসবই তাদের শিখনচর্চার অংশ। যারা পাঁচ বছরের বেশি বয়সী, তাদের সময়সূচিও প্রায় একই। ছুটি হয় বেলা সাড়ে এগারোটায়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্যও একই সময়সূচি অনুসরণ করা হয়। দুপুর বারোটা থেকে শুরু হয় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস; চলে বেলা দুটো পর্যন্ত।
মিজ রেবেকা স্পেন্সার ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুদের ঘুমের ঘাটতি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে প্রি-স্কুল শিশুদের দিনের ঘুমের ব্যবস্থা করা গেলে তা স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর গবেষণা আরও ইঙ্গিত দেয় যে ন্যাপ আবেগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে কোনো শিশু রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালে তার বয়স অনুযায়ী দিনের অতিরিক্ত ঘুমের প্রয়োজন না–ও হতে পারে।
এশিয়ার কয়েকটি দেশে শিশুদের ঘুমের গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্কুলে ঘুমের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। জাপানে মূলত নার্সারি, চাইল্ড কেয়ার ও প্রি-স্কুলে ১ থেকে ৪–৫ বছর বয়সী শিশুদের দুপুরে ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে দেওয়া হয়। চীনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও টিফিন বিরতিতে ন্যাপের ব্যবস্থা রয়েছে; বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে অঞ্চলভেদে প্রায় ৩০ থেকে ৯০ মিনিট ন্যাপের ব্যবস্থা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ডে-কেয়ার, কিন্ডারগার্টেন ও ছোট শিশুদের জন্য এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুমের ব্যবস্থা রয়েছে।
"যেসব শিশু রাতের ঘুমের ঘাটতি মেটাতে দুপুরে বা দিনের নির্ধারিত সময়ে ঘুমিয়েছে, তারা শেখানো বিষয় পরে ভালোভাবে মনে রাখতে পেরেছে। তাঁর এই গবেষণা আরও ইঙ্গিত দেয় যে ন্যাপ আবেগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিজ রেবেকা স্পেন্সার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর, ৫ বছর, ২ ঘণ্টা, ৩০ মিনিট, ৯০ মিনিট, ৮৬৪টি গবেষণা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!