📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম (১৯) বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান। তার কক্ষে অগোছালো বই, ব্যবহারিক খাতায় আঁকা ২০টি চিত্র, স্বর্ণপদক ও অখাওয়া চিপসের প্যাকেট পড়ে ছিল। সহপাঠীরা তাকে 'নয়নমণি' বলে ভালোবাসতেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম (১৯) গত মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুবরণ করেছেন। শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ২৩৬ নম্বর কক্ষে তার মৃতদেহ পাওয়া গেল। কক্ষে অগোছালো বই, ব্যবহারিক খাতায় আঁকা প্রায় ২০টি চিত্র, স্বর্ণপদক ও বিছানায় অখাওয়া চিপসের প্যাকেট পড়ে ছিল। সহপাঠীরা তাকে 'নয়নমণি' বলে ভালোবাসতেন এবং তিনি ছিলেন বিভাগের প্রতিযোগিতায় সক্রিয় একজন শিক্ষার্থী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯ বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান; মৃত্যুকালীন তার কক্ষে অগোছালো বই, ব্যবহারিক খাতায় আঁকা ২০টি চিত্র, স্বর্ণপদক ও অখাওয়া চিপসের প্যাকেট পড়ে ছিল।
- 📌 গতকাল রাত ৯টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের মূল ফটকের পাশে ব্যানার লাগানোর সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
- 📌 আরিফুলের মৃত্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
- 📌 সহপাঠী জহিরুল হক বলেন, ‘আমি আরিফুলকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখতাম। তিনি সারা দিনের কার্যকলাপ আমার সঙ্গে শেয়ার করতেন।’
- 📌 আরিফুল আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ৮০০ মিটার দৌড়ে দ্বিতীয় হয়ে পদক পেয়েছিলেন এবং একটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন।
- 📌 বাবা মোহাম্মদ মনসুর আলী পেশায় কৃষক; আরিফুল দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ২৩৬ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা গেল, আরিফুলের পড়ার টেবিলে অগোছালো বই ও ব্যবহারিক খাতায় আঁকা প্রায় ২০টি চিত্র পড়ে ছিল। পাশে স্বর্ণপদক ও বিভিন্ন স্মারক ছিল। বিছানায় রাখা একটি চিপসের প্যাকেট ছিল, যা তিনি টিউশনি থেকে ফেরার পথে কিনে এনেছিলেন। তবে সেই চিপস আর খাওয়া হলো না। সহপাঠীরা তাকে 'আমাদের ব্যাচের নয়নমণি' বলে ভালোবাসতেন।
গতকাল রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবদুর রব হলের মূল ফটকের পাশে ব্যানার লাগানোর সময় আরিফুল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আরিফুলের সহপাঠী জহিরুল হক বলেন, ‘আমি আরিফুলকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখতাম। সে সব সময় আমার সঙ্গে আলোচনা করত। গতকাল রাতে টিউশনি থেকে ফিরে তিনি আমাকে দেখাতে চেয়েছিলেন তার আঁকা ব্যবহারিক খাতা, কিন্তু পরীক্ষা থাকায় সেটি দেখিনি। এখন আরিফুল আমাদের কাছে স্মৃতি হয়ে গেল।’
আরিফুল আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ৮০০ মিটার দৌড়ে দ্বিতীয় হয়ে পদক পেয়েছিলেন। তিনি একটি জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন। সহপাঠীরা তাকে হাসিখুশি, প্রাণচঞ্চল ও সহজে মিশতে পারা একজন বলে বর্ণনা করেছেন।
আরিফুলের বাবা মোহাম্মদ মনসুর আলী পেশায় কৃষক। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। স্বল্প আয়ের সংসারে বড় হওয়ায় তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে টিউশনি করতেন। মাত্র আড়াই হাজার টাকা পেয়ে সে টাকা দিয়ে নিজের খরচ মেটাতেন। সহপাঠী বিশাল হোসাইন বলেন, ‘আমরা যখন ক্যাফেটেরিয়ায় মাংস দিয়ে খাবার খাচ্ছিলাম, তখন সে শুধু সাদা ভাত আর ১০ টাকার একটি ভাজি নিয়ে খেতেন। খাবারের টাকা শেয়ার করতেও দিত না।’
"আমি আরিফুলকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখতাম। সারা দিন সে কোথায় কী করছে, কোথায় যাচ্ছে—সবকিছু নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত আরিফুল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শহীদ ফরহাদ হোসেন হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফুল ইসলাম (১৯), জহিরুল হক, মোহাম্মদ মনসুর আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ বছর বয়স, ২০টি চিত্র, ২৩৬ নম্বর কক্ষ, ৯টা ৫০ মিনিট, ৮০০ মিটার দৌড়, ১০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!