📌 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে ২৩ শিক্ষক পদোন্নতি পেয়েছেন। কিন্তু মার্কেটিং বিভাগের আবদুল কাইয়ুমকে পদোন্নতি না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। সিন্ডিকেটের সদস্য ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ বলে তাকে বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৩ জন শিক্ষক। তবে একই সঙ্গে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ পড়া মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুমের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ বলে তাকে পদোন্নতি থেকে বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
- 📌 মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুমকে পদোন্নতি না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 সিন্ডিকেটের সদস্য ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ বলে তাকে পদোন্নতি থেকে বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
- 📌 পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হাফিজ আশরাফুল হক, ইতিহাস বিভাগের আবদুল বাতেন চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের হালিমা বেগম এবং আরও ২০ জন।
- 📌 শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, ‘আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে, কিন্তু অন্যায়ভাবে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।
- 📌 শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ফ্যাসিস্ট’ অভিযোগে পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষক ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ পড়া মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুমের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ২৯ আগস্ট ২৪ শিক্ষকের পদোন্নতি বিষয়টি আলোচিত হয়। এর মধ্যে ২৩ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া হয়, কিন্তু আবদুল কাইয়ুমের বিষয়টি ‘অধিকতর পর্যালোচনা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, আবদুল কাইয়ুমকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ বলে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় একজন সদস্য মত দিয়েছিলেন যে, যাঁরা ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া ঠিক হবে না’। তবে তিনি বলেন, ‘কী হয়েছে, তা বলতে পারব না’।
পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হাফিজ আশরাফুল হক, ইতিহাস বিভাগের আবদুল বাতেন চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তারেক মাহমুদ আবির, রসায়ন বিভাগের হালিমা বেগম, নাজমুল কায়েস, মাসুদ পারভেজ ও গাজী জহিরুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের জামাল উদ্দিন, গণিত বিভাগের শাখাওয়াত হোসেন, বিজন কৃষ্ণ সাহা, হেনা রানী বিশ্বাস ও শফিউল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের রাহাত হোসাইন ফয়সাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের ইশরাত জাহান লিজা, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ধীমান কুমার রায়, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সুব্রত কুমার দাস, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শাখাওয়াত হোসেন, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, তাজিজুর রহমান ও সোহেল চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাদিকুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের আলমগীর মোল্লা।
পদোন্নতি আটকে যাওয়া শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, ‘কেন আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝতে পারছি না। তবে আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে বহু আগেই। তারপরও কেন, কী কারণে এটা হয়নি, আমি জানি না। তবে এটা আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে’।
এদিকে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুকের ‘লিংকার্স ইন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’ গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সরকারের নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে হয়েছে। এটা সবাই করেছেন। এ জন্য একজন যোগ্য শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দিয়ে পদোন্নতি আটকে দেওয়া অন্যায়’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন অর রশিদ বলেছেন, ‘সিন্ডিকেট মনে করেছে আবদুল কাইয়ুমের বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা করা দরকার। তাই তাঁর পদোন্নতি হয়নি’। তিনি আরও বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হওয়ায় পদোন্নতি না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘না, এমন কোনো বিষয় নেই’।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা তৎকালীন উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ২৮ এপ্রিল অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। পরে মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অব্যাহতি দিয়ে মামুন অর রশিদকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষকেরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
"কেন আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝতে পারছি না। তবে আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে বহু আগেই। তারপরও কেন, কী কারণে এটা হয়নি, আমি জানি না। তবে এটা আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল কাইয়ুম, মামুন অর রশিদ (উপাচার্য), হাফিজ আশরাফুল হক, আবদুল বাতেন চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ জন পদোন্নতি পেয়েছেন, ২৪ জনের তালিকা ছিল, ৬০ জনের পদোন্নতি দাবি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!