📌 বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাস হার ৪৪.৮৪% পৌঁছেছে। ইংরেজি বিষয়ে খারাপ ফল এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় অমনোযোগিতাই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষরা অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। পাসের হার মাত্র ৪৪.৮৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম। এছাড়াও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা ৭২৪ জন কমে ৯৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষদের মতে, ইংরেজি বিষয়ে খারাপ ফল এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৪৪.৮৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম
- 📌 ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার মাত্র ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলকে বিপর্যস্ত করেছে
- 📌 শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষরা বলেছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিলেন না এবং অভিভাবকরা যথাযথ সচেতন ছিলেন না
- 📌 শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়ও রয়েছে ফল বিপর্যয়ে
- 📌 বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের পাস হার মাত্র ২৮.৭৪ শতাংশে নেমে এসেছে
📰 বিস্তারিত
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা জানান, ইংরেজি বিষয়ে খারাপ ফলাফলই মূল কারণ। তিনি বলেন, “ইংরেজিতে ফল খারাপ করায় মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার প্রায় ৫৩ শতাংশ। এবারের ফলাফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানান তিনি।”
বরিশালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের পাস হার এবার মাত্র ২৮.৭৪ শতাংশে নেমে এসেছে। কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আতিকুর রহমান বাপ্পি বলেন, “ফলাফলের বিপর্যয়ের জন্য কেবল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক দায়ী নন। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায় রয়েছে।”
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার দাবি করেছেন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়া, প্রশ্নপত্রের মানে তারতম্য এবং প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার কারণে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়াও ফল খারাপের অন্যতম কারণ।
হিজলা উপজেলার সরকারি হিজলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিন মোহাম্মাদ বলেন, ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে স্কুল থেকে দুর্বল হয়ে আসা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া না করে বিভিন্ন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়াকে দায়ী করেছেন। এছাড়া এসএসসির পর ভালো শিক্ষার্থীদের শহরে চলে যাওয়াও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে রাজপথে সময় ব্যয় করেছে। অভিভাবকেরাও সচেতন ছিলেন না। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল না। এটা এক ধরনের সামাজিক সমস্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”
"ইংরেজিতে ফল খারাপ করায় মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার প্রায় ৫৩ শতাংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের বিভিন্ন কলেজ (বরিশাল ইসলামিয়া কলেজ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ, হিজলা উপজেলা সরকারি হিজলা কলেজ, বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা, আতিকুর রহমান বাপ্পি, তাসমিয়া আক্তার, দিন মোহাম্মাদ, অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ, অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি শিক্ষা বোর্ড, ৪৪.৮৪ শতাংশ পাস হার, ১৮ শতাংশ কমেছে, ৭২৪ জন কম জিপিএ-৫, ৬২.৫৭ শতাংশ পাস হার (গত বছর), ৯৫০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন, ৫৩ শতাংশ ইংরেজি বিষয়ে পাস হার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!