📌 পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে বসবাস করা পরিবারের মেয়ে ইশরাত জাহান আমেনা জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হলেও ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে অটল সে
পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ইশরাত জাহান আমেনা জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এই অসাধারণ ফল অর্জন করে সে। তবে উচ্চশিক্ষার পথে অর্থকষ্ট তার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো পরিবারের মেয়ে ইশরাত জাহান আমেনা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে
- 📌 মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এই ফল অর্জন
- 📌 পরিবারের অর্থকষ্টের কারণে উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন
- 📌 মেধাবী আমেনা নিজের অদম্য চেষ্টা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন করেছে
- 📌 বিদ্যালয় থেকে এ বছর মোট ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
প্রায় ১২ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারান হাবিবুর রহমান ও জরিনা খাতুন দম্পতি। এরপর মাদবরেরচর ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকায় অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে বসবাস করছেন তাঁরা। অভাব-অনটন ও রোগব্যাধি নিত্যসঙ্গী এই পরিবারের পাঁচ সন্তানের তৃতীয় ইশরাত জাহান আমেনা। প্রতিকূলতার মধ্যেও এ বছর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। শ্রেণিতে তার রোল ছিল ১৮।
অদম্য চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এ অর্জনের পেছনে মা-বাবা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাই প্রধান বলে মনে করে মেধাবী আমেনা। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করলেও উচ্চশিক্ষার পথে অর্থকষ্ট এখন তার বড় বাধা। স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তবে সব বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে ইশরাত জাহান আমেনার।
সরেজমিন আমেনাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে কাদাময় ও পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে ছোট্ট একটি ঘর। ঘরের ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা আসবাবপত্রের ফাঁকে রয়েছে একটি ছোট পড়ার টেবিল। ঘরের নানা কাজে অসুস্থ মাকে সহযোগিতা করছে আমেনা।
‘আমরা নদীভাঙনের মানুষ। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। আমি কিডনি রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে টানাটানির সংসার। তবে আমেনার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ। নিজের ইচ্ছায় বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছে সে। ঠিকমতো প্রাইভেট পড়াতেও পারিনি।’
নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে ইশরাত জাহান আমেনা বলেন, ‘নবম শ্রেণিতে আমার রোল ছিল ১২। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর ফল খারাপ হওয়ায় রোল ১৮ হয়। ফল প্রকাশের পর বাড়িতে এলে আব্বা আমার রেজাল্ট দেখে ভীষণ মন খারাপ করেন। আব্বার মলিন মুখ দেখে আমি অনেক কষ্ট পাই। এরপর আমার মধ্যে জেদ তৈরি হয়—আমাকে ভালো করতেই হবে। আমি চেষ্টা করতে থাকি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আমেনা বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ভালো একটি কলেজে পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়া। আমার বাবার তেমন সামর্থ্য নেই। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হক বলেন, ‘মেয়েটি নিঃসন্দেহে মেধাবী। তবে পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা তাকে বিভিন্ন সময়ে বাধাগ্রস্ত করেছে। এরপরও সে থেমে থাকেনি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তার মা অসুস্থ থাকায় ঘরের রান্নাবান্নাসহ আনুষঙ্গিক কাজও তাকে নিয়মিত করতে হয়। এরপরও সে স্কুলে আসত। তার অদম্য চেষ্টায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।’
‘আর্থিক অনটন যেন এই মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের তার মতো মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাদারীপুর, শিবচর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইশরাত জাহান আমেনা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (জিপিএ), ১৮ (রোল), ১১ (জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী), ১২ (বছর পূর্বের ভাঙন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!