📌 চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের অসহায় প্রবীণ আব্দুল বারীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন তার পাশে এসেছে এবং খাদ্যসহায়তা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র তার ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া এলাকার অসহায় প্রবীণ আব্দুল বারীর দুর্দশার খবর প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন তার সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র তার খোঁজখবর নিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন এবং ভবিষ্যতে তার স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ২৮ আগস্ট নয়া দিগন্তে আব্দুল বারীর জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে "ক্ষুধার কাছে হার মানেননি ১১৬ বছরের আব্দুল বারী" শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
- 📌 উপজেলা প্রশাসন তার বাড়িতে গিয়ে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডালসহ আট ধরনের শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছে।
- 📌 জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্মসাল ১৯২১ এবং বর্তমান বয়স প্রায় ১০৫ বছর, তবে তিনি নিজের বয়স ১১৬ বছর দাবি করেন।
- 📌 স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি একাকী একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে বসবাস করছেন এবং সাইকেলে ঘুরে হাড়ি-পাতিল মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
📰 বিস্তারিত
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া এলাকায় একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে আব্দুল বারী দীর্ঘদিন ধরে একাকী বসবাস করছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে তিনি এখনো সাইকেলে চড়ে হাড়ি-পাতিল মেরামতসহ ছোটখাটো শ্রমের কাজ করেন এবং সেই আয় থেকে তার জীবন চলে।
গত ২৮ আগস্ট নয়া দিগন্তে তার জীবনসংগ্রাম নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার অসহায় জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সাংবাদিকরা যখন তার খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন, তখন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রকে অবহিত করা হয়।
বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তিথি মিত্র আব্দুল বারীর বাড়িতে যান। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তার বসবাসের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
আব্দুল বারীকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডালসহ আট ধরনের শুকনা খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। খাদ্যসহায়তা পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং জানান যে গত কয়েকদিন ধরে তিনি অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো খাবারও খেতে পারছিলেন না। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করছেন এবং তার দুই মেয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেয় না বলে তিনি দাবি করেন।
"আব্দুল বারী নিজের বয়স ১১৬ বছর দাবি করলেও তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসাল ১৯২১ উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ১০৫ বছর।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র জানান যে আব্দুল বারীর নিজস্ব কোনো জমি নেই। তবে তিনি যে জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, ওই জমির মালিকের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় লিখিত ব্যবস্থা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় তার জন্য স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন যে আপাতত উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে তাকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি সরকারি বয়স্ক ভাতাও পান, তবে একজন অসহায় প্রবীণের জন্য এই সহায়তা যথেষ্ট নয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী মসজিদপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল বারী (প্রবীণ), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, আট ধরনের শুকনা খাদ্যসামগ্রী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!