📌 ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে পালিত হয় শিক্ষা দিবস। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, বৈষম্য ও মানের প্রশ্ন এখনও অবস্থিত। আজ ৬৪ বছর পরও শিক্ষাক্ষেত্রে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি
১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়, কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, বৈষম্য ও মানের প্রশ্ন এখনও অবস্থিত। আজ এই আন্দোলনের ৬৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রশ্ন উঠেছে: শিক্ষাক্ষেত্রে জনমানুষের দাবি ও অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ ৭৩ জন আহত ও ৫৯ জন গ্রেপ্তার হন
- 📌 ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সরকার শিক্ষা কমিশন গঠন করে, যা শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে সুপারিশ করে, বিশেষত শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়
- 📌 শিক্ষা কমিশনের সুপারিশে স্নাতক ডিগ্রি কোর্সের মেয়াদ বাড়ানো, শিক্ষকদের ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও স্বায়ত্তশাসন বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়
- 📌 ১৯৬২ সালের ১০ আগস্ট ঢাকা কলেজে স্নাতক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সমাবেশে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া জাগায়
- 📌 স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের শিক্ষানীতির ৬০-৭০ শতাংশ রেখে ২০১০ সালে একটি শিক্ষানীতি তৈরি করা হলেও মৌলিক দিক বাস্তবায়ন হয়নি
📰 বিস্তারিত
১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়, কিন্তু সরকারিভাবে এই দিনটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আইয়ুব খানের সরকার এস এম শরীফের নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে, যা শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে সুপারিশ করে। শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য অর্থসংস্থানের প্রস্তাব ছিল শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষত শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়।
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন প্রথম দিকে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস বর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। জুলাই মাসে এই আন্দোলন তীব্রতা পায়। ১৯৬২ সালের ১০ আগস্ট ঢাকা কলেজ ক্যানটিনে স্নাতক ও উচ্চমাধ্যমিক উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক সমাবেশে মিলিত হন। এই সভায় সারা দেশে শিক্ষার্থীদের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া জাগায়। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তবে শিক্ষার্থীরা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেন। ব্যাপক প্রচারের সঙ্গে চলতে থাকে পথসভা ও খণ্ডমিছিল। ধীরে ধীরে অন্য পেশাজীবীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ আর গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষানীতির ৬০-৭০ শতাংশ রেখে ২০১০ সালে একটি শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছিল। তবে মৌলিক দিক বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় বাণিজ্যিকীকরণ, বৈষম্য ও মানের প্রশ্ন এখনও অবস্থিত। বামপন্থী ও প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো এখনও শিক্ষা দিবস পালন করে থাকলেও অন্য বড় দলগুলোর ছাত্রসংগঠন বা ইসলামপন্থী ছাত্রসংগঠন কোনো কর্মসূচি রাখে না। এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, শিক্ষাক্ষেত্রে জনগণের অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
"শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, বৈষম্য ও মানের দিক থেকে আমরা কোথায় অবস্থান করছি সেই হিসাব করার দিন আজ। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যেকোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রথমেই শিক্ষায় হাত দেয়। সব সরকারই শিক্ষাকে কেন জানি খুব ভয় পায়। তাই শিক্ষার গলা টিপে ধরার চেষ্টা করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আন্দোলনের কেন্দ্র), পাকিস্তান (১৯৬২), বাংলাদেশ (বর্তমান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল, এস এম শরীফ, আইয়ুব খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ জন আহত, ৫৯ জন গ্রেপ্তার, ১৭ সেপ্টেম্বর (শিক্ষা দিবস), ৬৪ বছর (আজকের আন্দোলনের ৬৪ বছর পূর্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!